এসএসসি ফল প্রকাশের পর ১০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ৮ সুপারিশ আঁচল ফাউন্ডেশনের

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। গতকাল আঁচল ফাউন্ডেশন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের এমন মৃত্যু ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি ৮ দফা সুপারিশ করে।

আঁচল ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কৃত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ই আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, গোপালগঞ্জ, মেহেরপুর, কুমিল্লা ও চুয়াডাঙ্গা থেকে অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর মানসিক চাপে পড়েছিল বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন মেয়ে এবং তিনজন ছেলে। অর্থাৎ প্রকাশিত ঘটনাগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী এবং ৩০ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হওয়ায় পরীক্ষা চলাকালীন গত মে মাসে ভোলার একজন নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

আঁচল ফাউন্ডেশন বলছে, প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা দেশের মুখস্থ ও ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে আসছে। সমন্বয়কৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩১০ জন, ২০২৩ সালে ৫১৩ জন এবং ২০২২ সালে ৫৩২ জন। সংগঠনটির মতে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে পড়াশোনার চাপ ও পরীক্ষার ফলাফল অন্যতম নিয়ামক।

এই পরিস্থিতিতে আঁচল ফাউন্ডেশন সরকারের কাছে আট দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষার সময় ও ফল প্রকাশের পর অন্তত দুই সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের প্রতি পরিবারের বিশেষ নজরদারি, প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ফল প্রকাশের আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের জন্য হটলাইন ও বিশেষ মানসিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা।

এ ছাড়া শিক্ষক ও অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট ও আত্মহানির সম্ভাব্য ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্তকরণে প্রশিক্ষণ দেয়া, ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীকে অপমান, শাস্তি বা অন্যের সঙ্গে তুলনা না করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন এবং ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যার ঘটনা প্রচারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির মতে, একটি কম জিপিএ, অকৃতকার্য হওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া সাময়িক একাডেমিক ফলাফল- এটি জীবনের শেষ নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।