রাশিয়ান এসকর্টের পাতা বোমায় প্রাণ হারালেন ইউক্রেনের পক্ষত্যাগী উচ্চ পদস্থ একজন কমান্ডারের। এ অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবতীকে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের কাছ থেকে রাশিয়া অনেক দিন আগেই দখল করে নিয়েছে ক্রাইমিয়া অঞ্চল। সেখানেই ওই বিস্ফোরক ডিভাইস পেতে রেখেছিলেন ওই যুবতী। তাতে নিহত হয়েছেন ইউক্রেনের পক্ষত্যাগী কমান্ডার রবার্ট শাগিভ। তিনি পরে ক্রেমলিনের ব্লাক সি ফ্লিটে একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে হত্যার জন্য রাশিয়া দায়ী করেছে ৩২ বছর বয়সী মারগারিটা রিউট’কে। বিস্ফোরণের পর পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৪৯ বছর বয়সী শাগিভ। সঙ্গে সঙ্গে ক্রাইমিয়ার সেভাস্তোপোল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রিউটকে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত টেলিগ্রাম চ্যানেলকে উদ্ধৃত করে দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, শাগিভের কাছে একটি ময়লা ফেলার বিনের ভিতরে বিস্ফোরক ডিভাইস পেতে রাখে রিউট। তিনি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওই ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এত বিকট শব্দের সৃষ্টি হয় যে, প্রথমে লোকজন মনে করেন কোনো আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে। রাশিয়া ভিত্তিক ই২ডব্লিউ নিউজের সূত্রমতে, সন্ত্রাসী হামলার দায়ে রিউটকে অভিযুক্ত করেছে রাশিয়া। তিনি হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, কিয়েভের নির্দেশে এক অপারেশনে এই বোমা হামলা করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়টি পরিষ্কার নয়। রিউট কখন, কিভাবে ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাও পরিষ্কার নয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর রাশিয়া ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন রিউট। হত্যার জন্য তিনি অনুশোচনা করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিউট বলেন- ‘না’। উল্লেখ্য রিউটের জন্ম রাশিয়ার ইরোস্লাভ-১ এলাকায়। তিনি সোচি’তে বসবাস করতেন। ঘন ঘন সফর করেছেন ক্রাইমিয়াতে।
এমনকি তাকে এসকর্টদের ওয়েবসাইটেও দেখা গেছে। ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলার পর এক ট্রেনে ইউক্রেনপন্থি মন্তব্য করার পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাকে দু’দিন আটকে রাখা হয়। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অবমাননার অভিযোগে জরিমানা করা হয় তাকে। যদি বোমা হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে রিউটকে ৩০ বছর পর্যন্ত জেল দেয়া হতে পারে।
