আলিঙ্গন নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে ঝড়

ফন্ট সাইজ:

আলিঙ্গন একটি নিভের্জাল শব্দ হলেও কখনো কখনো রাজনীতিতে তা ব্যাঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ভারতেও এই মুহূর্তে এই শব্দটির প্রযোগ নিয়ে রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। ভারতের শাসক দল বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যেই জোর তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধী দল নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তিনি কবে 'পরিপক্ক' হবেন।
নয়াদিল্লিতে রচনাত্মক কংগ্রেসের জাতীয় সম্মেলনে রাহুল গান্ধী মোদীর পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গিকে উপহাস করেছিলেন।

সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, পররাষ্ট্রনীতি মানে “নেতাদের আলিঙ্গন করা”—এই ধারণা কোথা থেকে এসেছে বা কারা ঢুকিয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
রাহুল গান্ধী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী বিদেশী নেতাদের আলিঙ্গন করার মতো প্রতীকী অঙ্গভঙ্গির উপর মনোযোগ দিয়ে কূটনীতিকে অতি সরলীকরণ করেন। এরপর তিনি মোদী সরকারের কূটনৈতিক পদ্ধতির সমালোচনা তুলে ধরতে মঞ্চে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে ’নকল আলিঙ্গন’ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন রাহুল। এই সময় সন্দীপ দীক্ষিত তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি? মেলোনি বুঝে তো আর ধরেননি?” রাহুল অবশ্য জবাবে বলেন, “আমি এখনও সেখানে পৌঁছাইনি।”


আসলে কিছুদিন আগে ইতালি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য ভারত থেকে একটি বিশেষ উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। সেটি ছিল মেলোডি টফি। মোদির এই বিশেষ উপহারটি পাওয়ার সেই হালকা মুহূর্তটি মেলোনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে লিখেছিলেন, "উপহারটির জন্য ধন্যবাদ।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ উল্লেখ করার পর বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক আলোচনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতালির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ‘সব দিক থেকে’ প্রসারিত ও শক্তিশালী হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে অবশ্যই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।


গত দুই দিনে বিজেপি নেতারা রাহুলের তীব্র সমালোচনা করে পাল্টা তার মন্তব্যকে 'নিকৃষ্ট মানের' বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে 'অমার্জিত ও অশালীন' ভাষা ব্যবহার এবং বিরোধীদলীয় নেতার পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করারও অভিযোগ এনেছে বিজেপি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী, প্রথম বিজেপি নেতাদের মধ্যে অন্যতম , রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করেছেন, "রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিপক্ব হবেন? ভারত চালানোর জন্য প্রয়োজন পরিণত নেতৃত্ব, অপেশাদার নাটক নয়। একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে 'ভাঁড় ও বিদূষক' বলা প্রমাণ করে যে আপনি আপনার যোগ্যতার বাইরে চলে গেছেন” বলে যোশী মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, যে স্তরে একজন নেমে যাচ্ছেন, তা রাহুল গান্ধীর চরম মূর্খতা এবং হতাশার প্রতিফলন। এই হতাশাই তাকে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে চালিত করেছে। আর প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করে রাহুল গান্ধী ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, "রাহুল গান্ধীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে মনে হচ্ছে। তার আচরণ শালীনতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। সোনিয়া গান্ধী যদি হস্তক্ষেপ না করেন এবং তার জন্য যথাযথ সাহায্যের ব্যবস্থা না করেন, তাহলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।"


বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ বলেছেন, রাহুল গান্ধীর ভাষা বিরোধীদলীয় নেতার কাছ থেকে প্রত্যাশিত মর্যাদার পরিপন্থী।


বিজেপির আরেক নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা প্রশ্ন তুলেছেন যে রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নিচে নামতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা সম্পূর্ণ বৈধ, কিন্তু একজন বিদেশি নারী নেত্রীকে স্থূল রসিকতার মধ্যে টেনে আনাটা বুদ্ধি বা রাষ্ট্রনায়কোচিত কোনোটাই নয়।


এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর আরেকটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধী বিজেপি ও আরএসএস-কে 'একদল ভাঁড়' বলে আখ্যা দিয়েছেন। আরএসএস একটি আদি শক্তি হিসেবে 'মৃত' হয়ে গেছে বলে দাবি করার পর কংগ্রেস ও বিজেপি-আরএসএস জোটের মধ্যে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এটিকে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য অনুপযুক্ত ও অশোভন বলে অভিহিত করেছেন। কর্ণাটকের সরকারি সম্পত্তি আইন নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই এই বিতর্কটি সামনে এসেছে।