মোহাম্মদপুরে এলেক্স ইমন হত্যায় গ্রেপ্তার ৫

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং লিডার ‘এলেক্স ইমন’ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে বিপুলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি ও সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার কাওরানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজ নয়মুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে র‌্যাব’র নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ জানতে পারে, কেরানীগঞ্জ মডেল ধানাধীন শাক্তা ইউনিয়ন ও খোলামোড়া এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপোল ওরফে বিপুল, সুজন, সোহেল ওরফে চায়না সোহেল, হৃদয়, রাব্বী ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপোল ওরফে বিপুল মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্রের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নয়মুল হাসান বলেন, আমরা গডফাদারদের গ্রেপ্তার করছি। খুব বেশি নিচের সারির সদস্য বা ছোটখাটো গ্রুপগুলোর দিকে হাত দিচ্ছি না। গডফাদারদের গ্রেপ্তার করার ফলে মোহাম্মদপুর আগের তুলনায় অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর আরও নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী হবে। সবাই নিরাপদে মোহাম্মদপুরে বসবাস করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুরকে সিটি অব গডস’ হিসেবে যে হাইপ তৈরি করা হয়েছে, সেটি মূলত একটি ধারণা। মোহাম্মদপুর থেকে গ্যাং ও সন্ত্রাসী তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল করতে পারবো বলে আশা করি। তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুরকে বখাটে ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে যে অভিযান চলছে, একইভাবে পুরো নগরকেই নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং লিডার ‘এলেক্স ইমন’ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, এটি তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবেন। আমরা মূলত তদন্তে সহায়তা করার জন্য পাঁচজনকে গ্রেপ্তার- একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছি। গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা যখন আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তখন হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। যেহেতু আমরা সরাসরি তদন্ত করছি না, এ বিষয়ে থানা পুলিশই ভালো তথ্য দিতে পারবে।

গত ১২ই এপ্রিলে মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ সড়কের ঢালে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এলেক্স ইমন গ্রুপের মূলহোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তখন ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।