রোববার কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রোববার কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বশেষ ২০০৬ সালের ৭ই অক্টোবর কিশোরগঞ্জ সফর করেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, নার্সিং ইনস্টিটিউট, কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনসহ বেশকিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন করেন। বিশ্রাম নেন সার্কিট হাউসের ১নং কক্ষটিতে। ২০ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মায়ের পদচিহ্ন রেখে যাওয়া শহরে ছেলে তারেক রহমান আসছেন একই পরিচয়ে। বিশ্রাম নেবেন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত সেই একই সার্কিট হাউসে। সর্বশেষ, গত ২২শে জানুয়ারি তিনি ভৈরবে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন।

এরআগে, ১৯৯৮ সালে ভৈরব-কুলিয়ারচরে সফরে গিয়ে ২৩টি পথসভা করেছিলেন তারেক রহমান। তখন বিএনপি ছিল বিরোধী দলে। তবে এবারের সফরসূচিতে থাকা জেলা শহর, পাকুন্দিয়া এবং কটিয়াদীতে প্রথম আসছেন তিনি। তাও আবার দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। স্বভাবতই তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, কিশোরগঞ্জ দেশের রাজনীতিতে সবসময়েই একটি আলোচিত জেলা হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এটি ছিল ভিআইপিদের জেলা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত মো. জিল্লুর রহমান, দুইবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বিসিবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন সবাই ছিলেন সরকারের অংশ।

কিন্তু উন্নয়নের দিক থেকে এই জেলা ছিল ততোটাই পিছিয়ে এবং বরাবরই অবহেলিত। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পরও এখানে নেই তেমন কোনো কলকারখানা, গড়ে উঠেনি কর্মসংস্থানের কোনো ক্ষেত্র। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকুন্দিয়া উপজেলার কালিয়াচাপড়া চিনিকলটি বন্ধ করে দিয়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে আরও সংকুচিত করে দেয়া হয়েছে। একইভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জ সদরের সুগার মিল এবং টেক্সটাইল মিল দুটোকেও। বোরো ধান ও দেশি মাছের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত জেলার হাওর অঞ্চলকে বাঁচাতেও নেয়া হয়নি কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। আগাম বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় প্রতি বছর ফসলহানির শিকার হচ্ছেন হাওরের কৃষক। ভৌগোলিক কারণে প্রায় ছয় মাস বেকার থাকা হাওরবাসীকে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রম বিক্রির জন্য ছুটতে হচ্ছে। হাওরে গড়ে উঠেনি কোনো মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রও।

ফলে বিনষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় প্রজাতির মাছ। জিআই সনদ পাওয়া হাওরের সুস্বাদু রাতাবোরো চাল এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনিরকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলুপ্তির পথে হাঁটছে সম্ভাবনাময় এই দু’টি খাত। বিপুল সম্ভাবনার হাওর পর্যটন ঘিরেও নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। জেলা শহরসহ প্রায় প্রতিটি উপজেলার প্রধান সড়ক খানাখন্দে ভরা। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কটিরও বেহাল দশা। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও তথৈবচ। জেলা শহরের বুক চিরে প্রবাহমান নরসুন্দা নদী এখন মৃত। লেকসিটি তৈরি করার নামে নরসুন্দাকে খালে রূপ দেয়া হয়েছে যা এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এ রকম পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন জেলাবাসী।