প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র দাখিল

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দু’টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র কমিশন গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের দু’টি এবং বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র রয়েছে। একই প্রার্থীর দু’টি মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব জানান, এটি নির্বাচন কমিশনের যাচাই বাছাইয়ের বিষয়। প্রথম মনোনয়নপত্রটি যদি কোনো কারণে বাতিল হয়, কেবল তখনই দ্বিতীয়টি যাচাই করে দেখা হবে।
মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা: প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।

দুপুর আড়াইটার দিকে মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভবনে আসেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থক হিসেবে রয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
অলির পক্ষে ১১ দলের মনোনয়নপত্র দাখিল: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের দুই মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তার পক্ষে দু’টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

প্রথমটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় সংসদ সদস্য আল আমিন, ডা. মাহমুদা মিতু, নাজমুন নাহার নীলুফা, মারদিয়া মমতাজ, কামাল হোসেন, কর্নেল আবদুল বাতেন, জয়নাল আবেদিন ও হাফেজ রাশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. ওমর ফারুক, এবি পার্টির এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মজিদ আতহারী
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সিইসি’র কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অলি আহমদের পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এখনকার প্রস্তাবক হলেন কর্নেল এমএ বাতেন, সমর্থক হলেন ডা. মাহমুদা মিতু। নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র রিসিভ করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন চাই না: মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে পূরণ করে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। প্রার্থী, প্রস্তাবক ও সমর্থকের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপিও জমা দেয়া হয়েছে।’ আগামী ১৬ই আগস্ট যাচাই বাছাইয়ে অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল একক প্রার্থী দেয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না।’ ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর এবারই আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে জোটটি।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা জিতবো কি হারবো, এটা বিষয় নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, আমরা সেটা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও সমালোচনা করা হয়। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও ভোট দেয়ার সুযোগ থাকা উচিত। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অনাস্থা ভোট ও অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।