নেতাজিকে নিয়ে কটূক্তি করায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে দেয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মাননা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই বিজেপি সাংসদকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ একাধিকবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির নেতৃত্ব ও আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। নেতাজিকে নিয়ে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করছেন বা অপমানজনক কথা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নেতাজির নামে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে সেবাকেন্দ্র চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, সাংসদ, বিধায়ক বা সরকারি আধিকারিকÑসবার জন্যই আইন সমান।
রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’-তে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজনৈতিক পদমর্যাদা বা সরকারি পরিচয় যা-ই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা নেতাজির বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আমি পুলিশকে বলেছি। যারা এর পেছনে রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না-এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি কারও নাম উল্লেখ করবো না; তবে বিধায়ক, সাংসদ, যেকোনো দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পুলিশ অফিসার-সবার জন্যই আইন সমান। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেছেন, তারা যেন অবিলম্বে সেই পোস্ট মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চান। না হলে গ্রেপ্তার হতে হবে। তবে পুলিশি তদন্ত চলবে ।
