মাগুরার ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানির জন্য স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দিয়েছে হাই কোর্ট। আপীলে হিটু শেখের পক্ষের স্টেট ডিফেন্স উপস্থিত না থাকায় হাফিজুর রহমানকে আইনজীবী হিসেবে এ নিয়োগ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, হিটু শেখের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মো. আব্বাস উদ্দিন এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেয়ায় শুনানির দ্বিতীয় দিনেই হাফিজুর রহমান খানকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগের আদেশ দেন আদালত। এরআগে গত মঙ্গলবার হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়।
উল্লেখ্য, রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়। ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য মামলার নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। ছাপার কাজ শেষে গত জুনে পেপারবুক হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়।
২০২৫ সালের ১৭ই মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার অপর ৩ আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেয়া হয়। রায়ের পর হিটু শেখ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটির ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৬ই মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশুটি। ওইদিন তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ৮ মার্চ তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। একই দিন শিশুটির মা হিটু শেখসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ই মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর পর ওই মামলায় হত্যার অভিযোগও যুক্ত হয়। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয়।
২৩ এপ্রিল হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় এবং অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৮ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর দুই দিনের যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।
