বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দীর্ঘ ২০ বছর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ছিলনা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাবে পর্যটন খাতে অনগ্রসরতার কথা জাতি জানতেও পারেনি। তবে বর্তমান সরকার কথা নয় কাজে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাবে রূপান্তরে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো সামীমুজ্জামান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো আব্দুর রউফ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা দূর করার জন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা জাতীয় পর্যটন নীতিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করছি। পর্যটন স্পট উন্নয়নে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিবো এবং তা বাস্তবায়ন করবো। তবে পর্যটন খাতের অগ্রযাত্রায় বেসরকারি অংশীজনকেই এগিয়ে আসতে হবে। মিল্লাত বলেন, জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলের সভা প্রতি ছয়মাস অন্তর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমরা অনুরোধ জানাবো। আপনাদের জন্য পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালা তৈরি করবো আমরা। তাছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হবে। সকলের সহযোগিতায় দেশীয় জিডিপিতে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত অদূর ভবিষ্যতে পৌছবে বলে আশা রাখি।
সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দুর করার জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্টের কাজ শুরু করেছি। তাছাড়া এবছর এডিপিতে ট্যাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। বিগত সময়ে সমন্বয়হীনতার কারনে অগ্রগতি হয়নি এখাতে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে সমন্বয়হীনতা দূর করে পর্যটন খাতকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো সামীমুজ্জামান বলেন, ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের মধ্যে নদীমাতৃক বাংলাদেশের পুরোটাই চলে আসে। আমাদের বিশেষ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য রেখে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম উন্নয়ন করতে হবে। পর্যটন স্পটগুলোতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আনা খুব জরুরি। স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে পর্যটক নিরাপত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। সেমিনারে বাংলাদেশে ব্যাক ওয়াটার-ট্যুরিজম এর গুরুত্ব, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের অবস্থান, ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন কর্ম পরিকল্পনা এবং করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া।
