টাকার অভাবে আটকে ছিলো বিয়ে, হীরা পেয়ে বদলে গেল ৭ শ্রমিকের জীবন

টাকার অভাবে আটকে ছিলো বিয়ে, হীরা পেয়ে বদলে গেল ৭ শ্রমিকের জীবন

ফন্ট সাইজ:

ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলাকে বলা হয় হীরার ভূমি। ভারতের সিংহভাগ প্রাকৃতিক হীরা এই অঞ্চলেই লুকিয়ে রয়েছে। তবে এই রত্নভাণ্ডারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র কিন্তু মোটেও ঝলমলে নয়। চরম দারিদ্র্য, সুপেয় পানির সংকট আর বেকারত্বে জর্জরিত পান্নার অধিকাংশ বাসিন্দা দিনমজুর হিসেবেই জীবন কাটান। দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পেতে তারা তাকিয়ে তাকে অলৌকিক কোনো সৌভাগ্যের দিকে। তেমনই এক অলৌকিক কাহিনীর জন্ম দিলেন আখিলেশ পাল এবং তার ছয় সঙ্গী। গল্পের শুরু দুই বছর আগে। সারোখা গ্রামে সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে সরকারি নিয়মে একটি ছোট খনি লিজ নেন চা বিক্রেতা ও দিনমজুর আখিলেশ পাল এবং তার ছয় বন্ধু। তপ্ত রোদে কাদা-মাটি খুঁড়ে দিনের পর দিন তারা হীরা খুঁজেছেন।

কিন্তু টানা দুই বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পরও কপালে জোটেনি কিছুই। অবশেষে হতাশ হয়ে বছরখানেক আগে তারা সেই পুরোনো খনির কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং ঠিক পাশেই নতুন একটি জায়গায় ভাগ্যের পরীক্ষা চালাতে শুরু করেন। ভাগ্যের মোড় ঘোরে সাম্প্রতিক এক ভারী বর্ষণের পর। টানা বৃষ্টির ফলে সারোখা গ্রামের মাটি ধসে যায় এবং পুরোনো পরিত্যক্ত খনিটির ওপরের স্তরটি ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে পড়ে। গত সোমবার আখিলেশ যখন নিজের নতুন খনিটি দেখতে যান, তখন হঠাৎই কৌতূহলবশত ফেলে রাখা পুরোনো খনিটির ভেতরে চোখ বুলাতে যান। আর তখনই ঘটে যায় সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত— কাদার ওপর চকচক করে জ্বলছিল একটি পাথর। মাটি সরিয়ে হাতে তুলে নিতেই আখিলেশ বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ কোনো পাথর নয়, তাদের ভাগ্য বদলের আলৌকিক পাথর।

ওজনে হীরাটি ১৭.৯৬ ক্যারেট। পান্না জেলা হীরা কার্যালয়ের কর্মকর্তা রবি প্যাটেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত করেন যে এটি এক অত্যন্ত দুর্লভ এবং উচ্চমানের প্রাকৃতিক হীরা, যাকে পরিভাষায় বলা হয় ‘জেম কোয়ালিটি’ বা রত্ন মানসম্মত হীরা। সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসে উন্মুক্ত নিলামে হীরাটি তোলা হবে, যেখানে দেশ-বিদেশের ক্রেতারা দর হাঁকাবেন। নিলামে এটির মূল্য অন্তত ৫০ লাখ রুপি বা তারও বেশি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১২ শতাংশ রয়্যালটি কেটে বাকি সব টাকা সাতজন শ্রমিকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের অনাহার আর অভাব কাটিয়ে উঠে এই অর্থ দিয়ে জীবনকে নতুন রূপ দেবেন তারা। এই সাত যুবকের মধ্যে তিনজন জানান, তীব্র দারিদ্র্যের কারণে এতদিন পাত্র হিসেবে কেউ তাদের মেনে নেয়নি এবং তারা বিয়ে করতে পারছিলেন না। রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া এই অর্জনে কেবল তাদের অর্থনৈতিক অভাবই ঘুচছে না, পূরণ হতে চলেছে একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলার আজন্ম লালিত স্বপ্নও। কাদা-মাটিতে জীবনের আশা হারিয়ে ফেলা সাত শ্রমিকের কাছে এই হীরা এখন শুধু একটি রত্ন নয়, তাদের নতুন করে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক।