গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে

সহযোগীদের খবর

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে’। খবরে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়লা সংকটে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি বড় আকার নিয়েছে এবং উৎপাদনে ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।

গত কিছুদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সেটিও বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে; কোথাও কোথাও ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে গ্রামের লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে রাজধানীসহ শহরগুলোতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেদের অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে।

তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি

জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতেই দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

রাতে সংকট আরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল রাত ১২টায় তিন হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট।

এর আগের দিনগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল রাত ১২টায়, লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার রাত ১টায় এযাবৎকালের রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল, তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও লাইনের গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সর্বোচ্চ উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে।

গ্যাসে বড় ধাক্কা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায়। মহেশখালীর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। সেখান থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ টার্মিনাল থেকে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়।

দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব। তবে পরে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

দেশে গাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট।

সিএনজি স্টেশনে চাপ

পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও চাপ পড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন তারা।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর সামান্য টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কোথাও কোথাও।

কয়লা ও আমদানিতে টান

গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

পটুয়াখালীর নোরিংকো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াট কমে এখন মিলছে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট কমে উৎপাদন হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ আমদানির ঘাটতি। জাতীয় গ্রিডের কারিগরি ও কয়লা সরবরাহ সমস্যার কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট কমে আমদানি হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট।

পল্লি এলাকায় দুর্ভোগ বেশি

দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় চার কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশই এসব সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও এসব এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে সমিতিগুলো।

শহর-গ্রাম সর্বত্র একই চিত্র

জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির চাপ পড়েছে রাজধানী ও আশপাশ এলাকাতেও। কেরানীগঞ্জে সকাল থেকে দফায় দফায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। গতকাল বেলা ১১টায় যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ আসে। দুপুর ২টায় আবার গিয়ে ফেরে বিকেল ৪টায়। সন্ধ্যায় গিয়ে আসে রাত সাড়ে ৮টায়।

ঢাকার উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগে গতকাল সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ফিরেছে দুপুর ১২টার পর। পান্থপথেও দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিনরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। আড়াইহাজারে তা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। নরসিংদীর রায়পুরায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং সাভারে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরের জেলাগুলোতেও সংকট তীব্র। রংপুরের গ্রামাঞ্চলে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎনির্ভর একটি কারখানার উৎপাদন এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। বরিশালের গ্রামাঞ্চলে প্রায় আট ঘণ্টা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠিতে মঙ্গলবার ১১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল সাত মেগাওয়াট।

শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচরে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোনো কোনো দিন ৯ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় লোডশেডিং হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জেলা শহরে প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সেখানে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট।

নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ১৫৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ মিলেছে প্রায় অর্ধেক।

ক্ষোভে হামলা, নিরাপত্তা চায় ৮০ সমিতি

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও পাবনায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা হয়। এতে লাইনম্যান আব্দুল লতিফ মারধরের শিকার হন।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। লোডশেডিংয়ে অভিযোগে গতকাল মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করেন কয়েক শ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনায় কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে গালাগাল, অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতিটি অফিস, গ্রিড, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ

সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ১২ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আলোকসজ্জাও পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

সমাধান কোন পথে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। মালয়েশিয়া থেকে অন্তত এক এলএনজি কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সংকট কমাতে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে নেয়নি। তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। ফলে যে সংকট একদিন না একদিন তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন সামনে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করতে হবে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।

প্রথম আলো

‘দলের পদ না ছেড়েই তাঁরা সরকারি সংস্থায়’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করেছে সরকার। গত ২৩ জুলাই দেওয়া এ নিয়োগ এক বছরের জন্য।

অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-২) পদমর্যাদায় এ নিয়োগের শর্ত ছিল, অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে।

বুলবুল বনশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের পদ ছাড়েননি। অর্থাৎ সরকারি নিয়োগে ‘সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের’ যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা তিনি মানেননি।

সরকার গত জুন ও জুলাইয়ে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশন এবং ৮টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনের বর্তমান ও সাবেক ১৭ নেতাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের নেতাদের কেউ এখনো দলীয় পদ ছাড়েননি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় দপ্তরে তাঁদের কারও পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি। দল থেকেও তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মৌখিকভাবে তিনি পদে থাকবেন না বলে দপ্তরে জানিয়েছেন।

১১টি সরকারি সংস্থা ও ৭টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়োগ। কেন্দ্রীয় দপ্তরে তাঁদের কারও পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি। দল থেকেও তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

সরকারি সংস্থাগুলোর প্রধানের পদ কোনো জনপ্রতিনিধির পদ নয়। নিয়োগে তো শর্ত ছিল সংগঠনের পদ ছাড়তে হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘১৮ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, জেল খেটেছি। এসব কেউ শোধ করতে পারবে? এটা (দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করা) আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার। এটা হবে।’

২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে ১১টি সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রেই ছিল একই শর্ত—অন্য পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে যোগদানের আগে ছাড়তে হবে।

দলীয় পদ না ছেড়ে সরকারি সংস্থার পদে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে জানতে কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে মুঠোফোনে কল করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। দলের পদ ছেড়েছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ও দলের সিদ্ধান্ত দাঁড়ি, কমাসহ মেনে তিনি কাজ করছেন।

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বিএনপির ছয় নেতা

১১ জুন দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এগুলো হলো চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

আট চেয়ারম্যানের ছয়জন বিএনপির নেতা ও একজন সাবেক নেতা। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অন্য সাতজনের কেউ এখন পর্যন্ত দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি। তাঁর প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। ময়মনসিংহের মোতাহার হোসেনের প্রজ্ঞাপনেও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত রয়েছে। একইভাবে কুমিল্লার উদবাতুল বারীর নিয়োগপত্রে অন্য পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ছাড়ার কথা বলা হয়েছে।

এই হিসাবে ১১ সংস্থার ৯ জন এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৬ জন অন্তত ১৫ জন নিয়োগের সময় বর্তমান দলীয় সাংগঠনিক পদে ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সূত্র বলছে, তাঁদের কেউ পদত্যাগ করেননি।

কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু প্রথম আলোর প্রশ্ন শুনে বলেন, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন। এ নিয়ে পরে কথা বলবেন।

সংগঠন বলতে কি রাজনৈতিক দলকে বোঝায়

সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও কঠোর বিধান রয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ বিধিতে সরকারি কর্মচারীর রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা অন্য কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংগঠন বলতে রাজনৈতিক দলকে বোঝানো হয়নি। তাই তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে না। অবশ্য দুজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, রাজনৈতিক দলও সংগঠন। যে প্রজ্ঞাপন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটা মানলে দল থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সংগঠন বলতে যদি রাজনৈতিক দল বোঝানো হয়, তাহলে নিয়োগপ্রাপ্তরা পদত্যাগ করবেন। পুরো বিষয়টি তিনি জানেন না।

দলের পদ ছাড়া উচিত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও দলের পদে থেকে সরকারি সংস্থার পদে বসার নজির রয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আজমত উল্লা খানকে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করা হয়। তাঁর নিয়োগের প্রজ্ঞাপনেও অন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ার পরও তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে ছিলেন। এ নিয়ে তখন নানা সমালোচনা হয়েছিল।

সরকারি চাকরি আইনের বিশেষজ্ঞ ও সাবেক যুগ্ম সচিব ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর প্রধানের পদ কোনো জনপ্রতিনিধির পদ নয়। এগুলো সরকারি পদ। এসব পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলের পদ ছাড়া উচিত।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী’। খবরে বলা হয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে এবং নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একক প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। দলগুলোর নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে এলাকায় তার সততা, ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনসমর্থনকে এবার সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী তাদের ৯৫ শতাংশ চেয়ারম্যানপ্রার্থীর নামের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে ইউপি চেয়ারম্যানপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে এনসিপি। অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ-সদস্য এবং উপজেলা-জেলা কমিটির মতামতের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে রাখছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

একক প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ করছে বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে, এটি ধরে নিয়েই একক প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। ফলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটি। স্থানীয় সংসদ-সদস্যদের আগ্রহ কিংবা তৃণমূলের পছন্দ বিবেচনায় থাকলেও দলীয় হাইকমান্ডের মূল নজর প্রার্থীর প্রকৃত জনসমর্থনের দিকে। স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তি পছন্দকে দূরে ঠেলে কেন্দ্র ও স্থানীয় সমন্বয়ে ‘একক প্রার্থী’র পেছনে পুরো দলকে ঐক্যবদ্ধ করাই এখন বিএনপির প্রধান নির্বাচনি কৌশল।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় একক প্রার্থী ঠিক করার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির উপজেলা কমিটিগুলোকে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ-সদস্যের মতামতেরও গুরুত্ব থাকবে। ইউনিয়নে চেয়ারম্যান বা মেম্বার প্রার্থী হিসাবে কার ভাবমূর্তি বা জনপ্রিয়তা কেমন, এ বিষয়ে উপজেলা কমিটিরই ভালো ধারণা আছে বলে মনে করা হয়। তবে কোনো ইউনিয়নে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে একক প্রার্থী বাছাইয়ে প্রথমে জেলা, পরে সংশ্লিষ্ট সংসদ-সদস্য এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রও এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে। তৃণমূলে নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ-সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বের কথাও শোনা হবে। সবকিছু বিবেচনা করে স্থানীয় ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে প্রার্থী ঠিক করা হবে। এখানে ব্যক্তি পছন্দ দেখলে হবে না; দেখতে হবে এলাকায় কে বেশি জনপ্রিয়।’

রিজভী বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, যারা প্রার্থী হবেন, তাদের জনগণের মধ্যে কাজ করে উঠে আসতে হবে। এখানে রাষ্ট্র কারও পক্ষপাতিত্ব করবে না, এমনকি পৃষ্ঠপোষকও হবে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় সমর্থন পেতে কেন্দ্রের পাশাপাশি স্থানীয় নেতাদের মনোযোগ আদায়েরও চেষ্টা করছেন তারা। কোথাও কোথাও স্থানীয় বিএনপির নেতারা প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজও এগিয়ে রাখছেন। কয়েকটি এলাকায় সংসদ-সদস্যরা প্রার্থী ঠিক করতে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে একাধিক বৈঠকও করছেন। উদ্দেশ্য হলো, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী যেন একজনই থাকেন।

যদিও প্রার্থী ঠিক করতে কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটি তারা আগেভাগেই করে রাখতে চাইছে। শিগ্গিরই সংসদ-সদস্যসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রার্থীর মানদণ্ড যাচাই-বাছাই ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের কণ্ঠ

‘কমছে বৈদেশিক ঋণ, দায় শোধে চাপ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় ধারাবাহিকভাবে কমছে। কিন্তু আগের নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

পাঁচ বছর আগে যে পরিমাণ নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি মিলত, এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বার্ষিক ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ফলে নতুন অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার সময়েই পুরনো ঋণের দায় সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এর সঙ্গে বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, ঋণের সুদ ও শর্তে পরিবর্তন এবং আগামী কয়েক বছরে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধের দায় যোগ হওয়ায় বৈদেশিক অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেই এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশকে ১০.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই প্রতিশ্রুতি নেমে এসেছে ৫.২৪ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে নতুন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৯৪ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বার্ষিক চাপ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। নতুন ঋণ কমে যাওয়ার সময়ে পুরনো ঋণের দায় এভাবে বাড়তে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামনের বছরগুলোতে এই চাপ আরো বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাবে, চলতি অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে পরিশোধ করা প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সামনের বছরগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়েও বড় পতন দেখা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাবে, জুলাই-মে সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ৪.৫৭৭ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্থছাড় ছিল ৫.৪৮৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে ১৮.৩ শতাংশ।

শুধু প্রকল্পের ঋণ নয়, বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রেও বিদেশি অর্থের প্রবাহ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫৬ বিলিয়ন ডলারে।

তবে অর্থছাড় কমলেও পাইপলাইনে থাকা বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বড়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাবে বর্তমানে অর্থছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে ৪১.৭৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ। এসব অর্থ দ্রুত ছাড় না হলে একদিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমতে পারে, অন্যদিকে প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য নতুন করে ঋণের প্রয়োজনও বাড়তে পারে।

ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি এখন বড় উদ্বেগ ঋণের খরচ নিয়েও। নমনীয় ও স্বল্প সুদের ঋণের অংশ কমে বাজারভিত্তিক পরিবর্তনশীল সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল পরিবর্তনশীল সুদের ঋণ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বাড়লে এসব ঋণের পরিশোধ ব্যয়ও বাড়তে পারে। বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব তাই সরাসরি বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের ঋণমান নিয়েও সতর্কতা এসেছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে।

বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও তথ্য চেয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের ব্যয়, ঋণের ধরন, বাজারভিত্তিক পরিবর্তনশীল সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা এবং আগামী দিনের ঋণ পরিশোধের চাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের জন্য এখন শুধু কত ঋণ নেওয়া হচ্ছে তা নয়, কোন শর্তে ঋণ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তার ব্যয় কত হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৈশ্বিক অর্থায়নের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো। ওইসিডির হিসাবে এসব দেশ ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তা হারাতে পারে। সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের আফ্রিকার দেশগুলোতে সহায়তা ১৬ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিশেষ করে অনুদান ও স্বল্প সুদের ঋণভিত্তিক অর্থায়ন কমে যাওয়াই বড় উদ্বেগের বিষয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈদেশিক ঋণ কমার পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে—বিনিময় হারের পরিবর্তন, ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধি এবং নতুন ঋণের নিট প্রবাহ কমে যাওয়া। নতুন ঋণের তুলনায় পরিশোধ বেশি হওয়ায় মোট ঋণের স্থিতিও কমেছে। মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর নীতিগত ধারাবাহিকতা ও দৃশ্যমান সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা, যা নতুন ঋণ চুক্তির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

ইত্তেফাক

‘খোঁজা হচ্ছে শূন্য পাশের কারণ, বাতিল হতে পারে এমপিও’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দাসনাইপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ১২ জন শিক্ষক মিলে ঐ শিক্ষার্থীকে পড়ানোর পরও সে অকৃতকার্য হয়েছে। খুলনার আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। অথচ এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র দুজন। দুই পরীক্ষার্থীর কেউই পাশ করতে পারেনি। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এ বছর মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া তিন পরীক্ষার্থীর কেউই পাশ করতে পারেনি। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক মাত্র তিন জন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে এক জনকেও পাশ করাতে পারেননি। নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাশ করতে পারেনি। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ৫ জন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৮ জন। তবুও পাশ করেনি এক জনও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু এই সাতটি নয়, সারা দেশে এমন ‘নামসর্বস্ব’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তিন শতাধিক, যেগুলোতে পড়ালেখা হয় না বললেই চলে। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। শিক্ষকসংকট এবং নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার ঘটনাও ভয়াবহ। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে ঘুরেফিরে চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। অথচ তাদের বেশির ভাগই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বেহাল চিত্র সামনে চলে এসেছে। এবার দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের থেকে এবার ১৭৮টি বেড়েছে। গত বছর শূন্য পাশ প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। অবশ্য এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও ছিল কম। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। আবার কয়েকটিতে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিভাগীয় বা জেলা শহরের তুলনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপজেলা, গ্রাম, উত্তরাঞ্চল, চর ও দুর্গম এলাকায় এসএসসিতে শূন্য পাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা এ তালিকার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই অবস্থান দেশের উত্তরাঞ্চল, হাওর-চরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায়। শূন্য পাশের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠান ২২৬টি। এর বাইরে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অর্থাত্ মোট শূন্য পাশ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭২ শতাংশ মাদ্রাসা। শূন্য পাশের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র জানায়, ৩১২ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি, তা খোঁজার চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি সেসব মাদ্রাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোও তাদের ডেকে কারণ জানার চেষ্টা করবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান সদুত্তর দিতে না পারে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা বাতিল হতে পারে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিক বার শূন্য পাশ আছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, শূন্য পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিওর সব সুবিধা নেবে অথচ এক জন শিক্ষার্থীও পাশ করবে না, তা হতে দেওয়া যায় না।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘মাঠ প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ’। খবরে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, মিছিল, দফতর ঘেরাও এবং ভাঙচুরের ঘটনায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান বিধিবিধান ও নিয়মকানুন মেনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত নানামুখী রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাঠ পর্যায়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি মারেন এবং অফিসের সামনে রাখা চেয়ার ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন। তাদের মূল অভিযোগ ছিল- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় না রেখে রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং ত্যাগের মূল্যায়ন না করে ছাত্রদল কর্মীদের বাদ দেয়া হয়েছে।

সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি মাঠে গড়ানোর শুরুতেই সারা দেশে কর্মীদের নিয়োগ ঘিরে এমন বৈষম্য ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, অনৈতিক সুপারিশ এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাদ দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অনেক স্থানে। একের পর এক উপজেলায় নিয়োগ তালিকা বাতিল, পুনর্নিয়োগের দাবি এবং ইউএনওদের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিতকরণের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের শুরুতেই প্রশ্ন উঠেছে- মাঠকর্মী বাছাইয়ে যোগ্যতা ও নীতিমালা প্রাধান্য পাচ্ছে নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও তদবিরের জোর কাজ করছে?

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গত সোমবার ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফল প্রকাশের পর নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ অকৃতকার্য প্রার্থীরা ফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ইউএনও কার্যালয়ের একটি কক্ষের জানালা, বারান্দার চেয়ার ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন। এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল মিয়া অভিযোগ করেন, আগে দুইবার কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

একই অভিযোগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং উভয় কর্মকর্তার বদলি দাবি করেন।

অন্য দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সোমবার রাতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিয়ান সরকার আরিফ ও সদস্যসচিব সোহেল রশিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়। তারা ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার অপসারণ দাবি করেন। ছাত্রদল নেতা আরিফের অভিযোগ, সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বঞ্চিতদের অধিকার আদায়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

সাদুল্লাপুরেও সোমবার রাতে বিক্ষোভ করে ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রদল। উল্লেখ্য, এই উপজেলায় নিয়োগ পরীক্ষা দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপের পর তৎকালীন ইউএনও মাহমুদুল হাসান বদলি হলে গাইবান্ধা সদর ইউএনও সবুজ কুমার বসাক সাদুল্লাপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেন। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষে ফল প্রকাশের পর বিতর্ক সৃষ্টি হয়। উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমেদ সোহান ও সদস্যসচিব পারভেজ সরকারের দাবি- কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে এই ফল তৈরি হয়েছে। তারা প্রক্রিয়াটি বাতিল করে নতুন নিয়োগের জন্য দুই দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ছাত্রদল কর্মীদের নিয়োগ না দেয়ায় ইউএনও ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: কায়েসুর রহমানকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী কামরুল হাসান নিসানের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়; পরে তিনি অন্য একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সোমবার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল ও বঞ্চিত আবেদনকারীরা উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও প্রিয়াংকা দাস এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণ দাবি করে ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা, শিক্ষা অফিস ও এলজিইডিসহ প্রধান সরকারি দফতরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা সব ধরনের দাফতরিক কাজ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ- আর্থিক লেনদেন এবং আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-শিবির কর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

বণিক বার্তা

‘বাস্তবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে বিবিএস?’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে।

অন্যদিকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে চাপ ও কর্মসংস্থানের সংকটের মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি। বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এ পার্থক্য বিবিএসের তথ্যের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর আগের মাস জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। মে মাসে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৪২ ও ৯ দশমিক শূন্য ৬। অর্থাৎ, মে থেকে জুলাইয়ে ধারাবাহিকভাবে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ দুটি হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫৫ ও ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সে হিসেবে গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ও সবজির বাজারের দামের ঊর্ধ্বমুখিতায় দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন) আগের প্রান্তিকের তুলনায় দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশে। মূলত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সবজির মূল্যবৃদ্ধি এ সময়ে মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ৯ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশে পৌঁছায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দামে। জ্বালানি তেল ও লুব্রিক্যান্টের মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ৮ এবং গ্যাসের মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে উন্নীত হয়। এছাড়া জুনে দেশে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মূল্য সমন্বয়ই জ্বালানি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে মূল্যস্ফীতির বিস্তার বা ডিফিউশন ইনডেক্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুনে ভোক্তা মূল্যসূচকের ৩৮২টি পণ্যের মধ্যে ২৬১টির দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। মাত্র ২২টি পণ্যের দাম কমেছে এবং ৯৯টি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি আর কয়েকটি পণ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রকাশিত মাসিক জাতীয় গড় খুচরা বাজারদরের ৬২টি পণ্যের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের সাত মাসের মধ্যে জুলাইয়ে ২৬টি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জুনের তুলনায় ১৩টি পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার মে ও জুনের তুলনায় জুলাইয়ে আটটি পণ্যের দাম বেশি ছিল। বিপরীতে জুনের তুলনায় ছয়টি পণ্যের দাম কমেছে এবং নয়টি পণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

জুলাইয়ে সয়াবিন ও পাম অয়েল, খোলা ময়দা, দেশী পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, গুঁড়া দুধ, বিভিন্ন ধরনের মাছ—রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙাশ, ইলিশ, শিং, সিলভার কার্প ও তেলাপিয়ার দাম চলতি বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। সবজির মধ্যে দেশী ও হল্যান্ড আলু, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, শসা ও টমেটোর দামও জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ছিল। আমদানি করা চিনির দামও বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে।

জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে কাঁচামরিচে। জুনে জাতীয় গড় খুচরা দাম কেজিপ্রতি ৭১ টাকা থাকলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪২ টাকায়। দেশী পেঁয়াজের দাম জুনের ৩৬ থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ৫৬ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসে দাম বেড়েছে ২০ টাকা বা ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে সয়াবিন তেলের দাম জানুয়ারির ১৮১ থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ১৯৩ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম ১৫৭ থেকে বেড়ে ১৬৮ টাকা হয়েছে। দুটি পণ্যের ক্ষেত্রেই জুলাইয়ের দাম ছিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

গত বছরের জুলাইয়ের সঙ্গেও ভোজ্যতেলের বাজারে মূল্যচাপের পার্থক্য স্পষ্ট। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৭১ টাকা, যা চলতি বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২২ টাকা বা প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ কম। পাম অয়েলের দামও ১৫৪ থেকে বেড়ে ১৬৮ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ট্রেনের ‘টাইম টেবিল’ লন্ডভন্ড। খবরে বলা হয়, কাগজ-কলমে ঢাকা থেকে রংপুরে যেতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের সময় লাগে ৯ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। কিন্তু বাস্তবে আরও অনেক রুটের মতো এই পথেও তা যেন সময়সূচির পাতায় সীমাবদ্ধ। ১ আগস্টের যাত্রায় পার্বতীপুরে ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে ৪ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায় ট্রেনটি। ৩১ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায়। পরদিন ময়মনসিংহ-জারিয়া ঝানজাইল রুটের জারিয়া লোকালের গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয় সাড়ে ৩ ঘণ্টা।

নানা কারণে ট্রেনের সময়সূচির হাল সাম্প্রতিককালে এমনই। গত ২৭ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র আট দিনের হিসাবেই দেখা গেছে, বিভিন্ন গন্তব্যের অন্তত ৭২টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি। রেলওয়ের দুই অঞ্চলের একটি পূর্বাঞ্চলে এই সংকট বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকট ও ইঞ্জিনের ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটিতে রেলযাত্রার সময় ঠিক থাকা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের এক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দেরি হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে আন্তনগর, কমিউটার, মেইল ও লোকাল—সবই রয়েছে। দেরির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিলম্বিত মোট ৭২ ট্রেনের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে ছিল ২৮টি এবং পূর্বাঞ্চলে ৪৪টি। এতে স্পষ্ট, এ সময়ে ট্রেন বিলম্বের চাপ পূর্বাঞ্চলে অনেকটাই বেশি ছিল।

রেলসূত্র জানিয়েছে, ইঞ্জিন বিকল (ফেইলিউর), ইঞ্জিনে গোলযোগ, লাইনচ্যুতি, রেললাইন ব্রোকেন বা বাকলিং, অতিবৃষ্টি, কোচের ক্ষয়ক্ষতি, সিগন্যাল-পয়েন্ট-সিবিআই ও প্যানেল বোর্ডের সমস্যা, বৈদ্যুতিক সমস্যা, দুর্বৃত্তদের পাথর নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন কারণে রেললাইন অবরোধের ঘটনায় এসব ট্রেন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।

নির্ধারিত সময়ে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় বিশেষ করে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে যাওয়া যাত্রীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না। স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। দূরপাল্লার ট্রেন বিলম্বিত হলে পরবর্তী পরিবহন সংযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

নিয়মিত ট্রেনযাত্রী আজাদুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সময়সূচির ওপর ভরসা করে যাত্রা শুরু করি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ট্রেন পৌঁছালে কর্মস্থলে যাওয়া এবং অন্যান্য জরুরি কাজকর্ম ব্যাহত হয়। পাশাপাশি বাড়তি খরচও হয়।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘অর্থ ব্যয় করে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে তারা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন। রেলের সময়সূচি মেনে চলাচল নিশ্চিত না হলে যাত্রীদের আস্থা আরও কমবে।’

দেশ রূপান্তর

‘ভোলার গ্যাস ফেলে রাখার খেসারত’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের স্থলভাগে সিলেটের পর অন্যতম প্রধান গ্যাস সম্ভাবনাময় অঞ্চল ভোলা ও আশপাশে নতুন গ্যাসের সম্ভাবনা মিললেও যথাসময়ে অনুসন্ধান ও উত্তোলন না হওয়ায় তার খেসারত দিচ্ছে দেশ। ভোলার বোরহানউদ্দিনে ১৯৯৫ সালে গ্যাস পাওয়ার পর ৩১ বছর কেটে গেলেও ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়নি। এমনকি ভোলার আশপাশের এলাকাগুলোতে গ্যাস পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও অনুসন্ধান ও উত্তোলনে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগাতে হলে সম্ভাবনাময় উপকূলীয় গ্যাস জোন মুলাদী-মেহেন্দীগঞ্জ, চরফ্যাশন, হাতিয়া ও মনপুরা এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধানের পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) সূত্র জানিয়েছে, দ্বিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর পাশে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদীতে গ্যাস পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। একই ভূগঠনের চরফ্যাশনে ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশে এখন মোট গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে অন্তত ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়। দেশীয় খনি থেকে গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৫২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা হয়েছে। ভোলায় এখন যে কূপ রয়েছে, সেখানে অন্তত দৈনিক ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অব্যহৃত রয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে আরও ২০টি কূপ খনন করলে প্রতি কূপে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত। সব মিলিয়ে ভোলা থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলে সংকট থাকত না।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ভোলার গ্যাস নিয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করেছেন। এরপর আমরা অনলাইনে পেট্রোনাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমাদের একটি টিম সেখানে গিয়েছিল এবং ফিরেও এসেছে। আমরা খুবই আশাবাদী, পেট্রোনাসের সঙ্গে কোলাবোরেশন করে ভোলার গ্যাসে ভালো কিছু করতে পারব।’

মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদীতে নতুন সম্ভাবনা : ভোলার নর্থ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ২০১৮ সালে। এরপর অতি সম্প্রতি পাশের এলাকাগুলোর মধ্যে মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদীতে দ্বিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়েছে বাপেক্স। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২০ লাইন কিলোমিটার জরিপের ফল গত মাসে বাপেক্সের হাতে এসেছে। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ভোলা নর্থের সঙ্গে এই এলাকার ভূগঠনের মিল রয়েছে, যা গ্যাস পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

বাপেক্সের ভূপদার্থিক বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (দ্বিমাত্রিক জরিপ) আব্দুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুলাদী ও মেহেন্দীগঞ্জে আমরা যে জরিপ করেছিলাম, তার ফল বেশ ভালো। স্যাটেলাইট ইমেজে একটি কূপের ড্রিলিং পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, ভোলা নর্থের ভূগঠনের সঙ্গে মুলাদী-মেহেন্দীগঞ্জের ভূগঠনের মিল পাওয়া গেছে।