৮ মাস ধরে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি

ফন্ট সাইজ:

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চের বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। দাবি মানা না হলে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আদালতের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানান।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, প্রকাশ্য আদালতে বিচার করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। বিচার বিভাগই যদি মানুষের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে কোনো বাস্তব সমস্যা থাকলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের ভুল হতে পারে। বিচারকরাও ভুল করেন বলেই বিচারব্যবস্থায় আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। গণমাধ্যমে ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবকরা দিনের পর দিন একটি সিদ্ধান্ত বহাল রাখবেন- এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষ যখন অধিকারবঞ্চিত ও অন্যায়ের শিকার হয়, তখন সর্বশেষ আস্থার জায়গা হিসেবে আদালতে যায়। কিন্তু আদালতই যখন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষ কোথায় যাবে? প্রয়োজন হলে সাংবাদিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেয়ার মতো কী এমন বিষয় রয়েছে, যা জাতি জানতে পারবে না- এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না।
এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন বলেন, এই কর্মসূচি সাংবাদিকদের রুটি-রুজির জন্য নয়, জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার জন্য। সংবিধানে বিচার প্রকাশ্য আদালতে হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এলআরএফ সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দাবি মানা না হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অবস্থান কর্মসূচিতে এলআরএফের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি।