বিপ্লব-ইকবালসহ চাকরি গেল ৬ পুলিশ কর্মকর্তার

ফন্ট সাইজ:

কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে বরখাস্ত হয়েছেন পুলিশের ৬ কর্মকর্তা। তারা হলেন- ডিএমপি’র সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপি’র সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ডিএমপি’র ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত কাজী আশরাফুল আজীম, কক্সবাজার এপিবিএন’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং ডিএমপি’র সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী। বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক ছয়টি আদেশে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত এবং বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের মৌখিক বা লিখিতিভাবে অবহিত না করে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাকে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাকে দু’টি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও এর কোনো জবাব দাখিল করেননি। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত এবং বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ২০২৪ সালের ২২শে আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের মৌখিক বা লিখিতিভাবে অবহিত না করে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাকে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে দু’টি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও এর কোনো জবাব দাখিল করেননি। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত সদয় অনুমোদিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ডিএমপি’র ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮শে আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের মৌখিক বা লিখিতভাবে অবহিত না করে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাকে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে দু’টি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও এর কোনো জবাব দাখিল করেননি। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৮শে আগস্ট তারিখ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড প্রদান করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ১৪ই আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের মৌখিক বা লিখিতভাবে অবহিত না করে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাকে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এরপর সরকারি কর্মচারী বিধি এবং বাংলাদেশ কর্ম কমিশন প্রবিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন একমত পোষণ করে। সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কাজী আশরাফুল আজীমকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ার এপিবিএন ৮-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর থেকে ৩০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচদিনের অনুমোদিত নৈমিত্তিক ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি ভোগ শেষে ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কর্মস্থলে হাজির হওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তিনি যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির না হয়ে অতিবাস করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুসারে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।

নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ডিএমপি’র সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব পদে প্রেষণে যোগদানের জন্য ২০২৪ সালের ১০ই আগস্ট ডিএমপি থেকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক স্মারকে তাকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন-এ বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়। তিনি ডিএমপি থেকে দায়িত্বভার অর্পণের পর থেকে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা এপিবিএন-এ যোগদান না করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অননুমোদিত অনুপস্থিতিকাল ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর কর্তৃক ২০২৪ সালের ১৯শে আগস্ট তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

সে পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩রা জুলাই তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক কারণ দর্শানো হয়। তাকে দু’টি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও এর কোনো জবাব দাখিল করেননি। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর সরকারি কর্মচারী বিধি এবং বাংলাদেশ কর্ম কমিশন প্রবিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন একমত পোষণ করে। সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গোলাম রুহানীকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত সদয় অনুমোদিত হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানীর বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুসারে পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে ২০২৪ সালের ১১ই আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।

এদিকে তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গাজীপুর, খুলনা ও কুষ্টিয়া জেলায় নতুন তিন পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই তিন জেলার পুলিশ সুপারকে হাইওয়ে ও এপিবিএন-এ বদলি করা হয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, পুলিশ স্টাফ কলেজের সরকার ওমর ফারুককে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ও সিলেট ডিআইজি রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়া জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে হাইওয়ে পুলিশে, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএন-এ বদলি করা হয়েছে।