শেরপুরে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি কান্তি মারাক কারাগারে মারা যাওয়ার পরও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, অবশেষে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলাটির কার্যক্রমও সমাপ্ত ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। বুধবার হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহার করে আসামির মৃত্যুর কারণে তার বিরুদ্ধে চলমান ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে। এরআগে গত ১লা জুলাই বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর দুইদিন শুনানি শেষে বিচারিক আদালতে কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে রায় দিয়েছিল।
বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএজি ইমাম হোসেন তারেক। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারার আলোকে আসামির মৃত্যুর সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমও শেষ হয়ে যায়। কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি আদালতের জানা না থাকায় প্রথমে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রায় ঘোষণার পর কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কান্তি মারাক রায় ঘোষণার প্রায় ৫ বছর আগেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মারা যান। তিনি ছিলেন মামলার একমাত্র আসামি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ কাশিমপুর কারাগারের জেলারের কাছে চিঠি দিয়ে কান্তি মারাকের মৃত্যুর তারিখ, কারণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চায়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক চিঠির সঙ্গে মৃত্যুসনদ পাঠিয়ে ২০২১ সালের ১৬ই জানুয়ারি কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক প্রমাণ (মৃত্যুসনদ) পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ স্বাক্ষর না হওয়া রায়টি প্রত্যাহার ও মামলার সমাপ্তি ঘোষণা চেয়ে এদিন হাইকোর্টে রি-কলের আবেদন করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর তথ্য আদালতের নজরে আনা হলে আগের রায়টি প্রত্যাহার ও মামলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩০শে মার্চ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার বাসিন্দা ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়। ওইদিন বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশীর কান্তি মারাকের ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ থাকা হাফ প্যান্ট পাওয়া যায়। পরে আসামির বসতবাড়ির পাশে পানি সেচের ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মৃতদেহ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা কান্তি মারাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর কান্তি মারাক আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। এ মামলায় বিচারিক আদালতে বিচার শেষে ২০১৯ সালে কান্তির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। তা অনুমোদনের জন্য ওই বছরেই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।
