সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ৭ আইনের মামলায় মধ্যস্থতার সুযোগ

ফন্ট সাইজ:

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও বিচারপ্রার্থীদের সময়-খরচ কমাতে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে নির্দিষ্ট ৭টি আইনের আওতাভুক্ত মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), বিশেষ করে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের অধীন দায়ের করা মামলাগুলোর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস যাতে সমাধান করতে পারে, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন দিয়েছেন।

যেসব আইনের মামলায় এই আপস-মীমাংসার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে সেগুলো হলো পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ নম্বর ধারা; পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারা; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ নম্বর ধারা; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারা; দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১, ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৪৯৪, ৫০০, ৫০১ ও ৫১১ নম্বর ধারা; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮, ৯, ১২, ৩৯, ৪২ ও ৫৪ নম্বর ধারা এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ নম্বর ধারা।
এ বিষয়ে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম জানান, লিগ্যাল এইডে দুই ধরনের মধ্যস্থতা হয়ে থাকেÑ‘প্রি-কেস’ বা মামলা দায়েরের আগের মধ্যস্থতা এবং ‘পোস্ট-কেস’ বা মামলা দায়েরের পরের মধ্যস্থতা। তবে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে বর্তমানে শুধু পোস্ট-কেস মিডিয়েশনের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, গুরুতর বা কগনিজেবল অপরাধ এ ধরনের মধ্যস্থতার আওতায় আসবে না। মূলত পারিবারিক বিরোধ, সাধারণ মারামারি ও অপেক্ষাকৃত ছোটখাটো বা ‘পেটি নেচারের’ মামলায় এ সুযোগ রাখা হয়েছে।
হাইকোর্টের ৫ কর্মচারী বরখাস্ত: শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে এক বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পৃথক পৃথক অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করে। অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ই নভেম্বর থেকে টানা অনুপস্থিত থাকার দায়ে প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ই আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিকে, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত ৪ঠা আগস্ট এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমিত ব্যতিরেকে কর্মস্থলের অনুপস্থিত থাকার কারণে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন বন্ধের অফিস আদেশ জারি করা হয়। গত ২৬শে জুলাই এ আদেশ জারি করা হয়।