মাইলফলকে মুশফিক স্মিথ-স্টার্ক

মাইলফলকে মুশফিক স্মিথ-স্টার্ক

ফন্ট সাইজ:

ডারউইনের মারারা ওভালে মাঠে নেমেই ২৩ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে বাংলাদেশ দলের। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার ভাগ্য হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। অস্ট্রেলিয়াও ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো শীতকালীন মৌসুমে টেস্ট খেলতে নামছে। দুই দলের প্রতীক্ষাকে যেন এক বিন্দুতে এনেছে ডারউইন টেস্ট। এ টেস্টকে আরেকটু স্মরণীয় অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের কাছে। মাইলফলক স্পর্শ করেছেন স্টিভেন স্মিথ ও মিচেল স্টার্কও। আর আট মাস পর টেস্ট দলে ফেরা জস হ্যাজেলউডও বল হাতে ট্রিপল সেঞ্চুরি অপেক্ষায় আছেন।

মুশফিকুর রহীম
প্রায় ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার। দেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহীম। এ লম্বা সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা হয়নি এ টাইগার ব্যাটারের। সেই মুশফিক আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন এই টেস্টে মাঠে নেমে। এই টেস্টের আগ পর্যন্ত ১০৩ টেস্টের ১৯০ ইনিংসে ২৯ ফিফটি ও ১৪ সেঞ্চুরিতে ৬ হাজার ৮০৬ রান করেছেন মুশফিক। সেঞ্চুরি পেয়েছেন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা পোশাকে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারটা ছুঁতে পারেননি। এর আগে অজিদের বিপক্ষে মুশফিক খেলেছেন মাত্র ২ ম্যাচ। ৪ ইনিংসে ৩৯.৫০ গড়ে করেছেন ১৫৮ রান। তাদের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৯৪ রান করতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাদা পোশাকে ৭ হাজার রানের মালিক হবেন এই অভিজ্ঞ তারকা।

স্টিভেন স্মিথ
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের বিপক্ষেই কোনো সেঞ্চুরি নেই স্টিভেন স্মিথের। ২০১৭ সালের সিরিজে দুই ম্যাচ খেলে মাত্র ২৯.৭৫ গড়ে করেছিলেন ১১৯ রান।

জশ হ্যাজেলউড
টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ২৯৫ উইকেট নেয়া জশ হ্যাজেলউড সিরিজের দুই টেস্ট মিলে ৫ উইকেট নিতে পারলে ইতিহাসের ৪২তম এবং অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে ছুঁয়ে ফেলবেন ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। আট মাস পর টেস্টে ফেরা এই পেসার ফিরছেন পুরনো সঙ্গী প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের সঙ্গে জুটি বেঁধে। চোট কাটিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো একসঙ্গে খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার এই তিন তারকা পেসার।

মিচেল স্টার্ক
১০৫ টেস্টের ২০২ ইনিংসে বোলিং করে এখন পর্যন্ত ৪৩১ উইকেট নেয়া মিচেল স্টার্কের সামনে আরও বড় মাইলফলক। এই সিরিজে ৯ উইকেট নিতে পারলে ডেল স্টেইনের (৪৩৯) ও কপিল দেবকে (৪৩৪) টপকে টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে উইকেট সংগ্রহের তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠে যাবেন এ বাঁহাতি পেসার।

নাথান লায়নের প্রত্যাবর্তন
হ্যামস্ট্রিং অস্ত্রোপচার কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর দলে ফিরছেন অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নও। অ্যাশেজের শেষ ভাগ থেকে ছিটকে যাওয়া ৩৮ বছর বয়সী এই অফ স্পিনারের ফেরায় অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণে শক্তি বেড়েছে। অভিষেক হচ্ছে জেক ওয়েদারাল্ডের। ট্রাভিস হেডের সঙ্গী হয়ে ইনিংস উদ্বোধনের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি।

পরীক্ষার নাম ‘ট্রাভিস হেড’
বাংলাদেশের বোলারদের মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন ট্রাভিস হেড। ২০২৫ সাল থেকে ইনিংস উদ্বোধন করে ৯১.৭ স্ট্রাইক রেটে রান করছেন এ বাঁহাতি ব্যাটার। একাধিক ইনিংসে ওপেন করা ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। ওপেনিংয়ে নেমে প্রতি ১০০ বলে গড়ে ১২.৭টি বাউন্ডারি মারেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার পেস-চ্যালেঞ্জ
গত দুই বছরে টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের উইকেটপ্রতি গড় রান মাত্র ২০.৭৫। যা এই সময়ে বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের গড় (২০.১৬) তাদের চেয়ে ভালো। ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের গড় আরও কম। মাত্র ১৯.৫৫ রান। তবে বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে সেই গড় কিছুটা বেশি। ২৪.০৮ রান। যা বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটারদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রের অংশ এই সিরিজ। পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া আছে দুইয়ে, বাংলাদেশ চারে। দু’দলের ছয় দেখার পাঁচটিতেই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ সালে এই মাঠেই বাংলাদেশকে এক ইনিংস ও ১৩২ রানে হারায় স্বাগতিকরা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২শে আগস্ট ম্যাকাইয়ে।