এই তো মাত্র দু’দিন আগে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলবদলে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান। এত দিন ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ক্লাবটির নামের পাশে ছিল ১২টি অভিযোগ। এবার আরও ২টি অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। আবাহনী ফকিরের ইয়ংমেন্স ক্লাবও তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারেনি। এর মধ্যেই ঘরোয়া লীগে অংশ নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়েছে মঙ্গলবার।
তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে এই দু’টি ক্লাবের জন্য লাইসেন্সিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।
১২টি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলবদলের অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বসুন্ধরা কিংস। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দলবদলের কার্যক্রমও শুরু করেছে দলটি। এরইমধ্যে তপু বর্মণ, সোহেল রানা, রাকিব হোসেনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে ফেলেছে দলটি। ভালো মানের বিদেশি আনার যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল দলটি, তখনই আরও দু’টি নিষেধাজ্ঞার খড়গ এসে পড়েছে ক্লাবটির ওপর। একই সংকটে পড়েছে আবাহনী লিমিটেড ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সও। আবাহনীর বিরুদ্ধে থাকা তিনটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দু’টি ইতিমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে, তবে বাকি নিষেধাজ্ঞাটি এখনো প্রত্যাহার করাতে পারেনি দলটি। অবশ্য নতুন মৌসুমে খেলার আশা ছাড়েনি আবাহনী। ক্লাবটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। শুধু ক্লাব লাইসেন্সিং নয়, খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময়সীমাও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে রূপু বলেন, ‘১৩ই আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করা খুব কঠিন। ২১শে আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে মৌসুম শুরু।
ফেডারেশনের প্রতি অনুরোধ থাকবে, খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের সময় আরও কয়েক দিন বাড়ানোর।’ এর আগে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের জন্য ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বাফুফে। পরে প্রথমে ৭ই আগস্ট, পরে ১১ই আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। মূলত খেলোয়াড় ও কোচদের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ না করায় এসব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ক্লাবগুলো। বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে প্রথম নিষেধাজ্ঞা আসে গত বছরের ২৭শে আগস্ট। এরপর বিভিন্ন অভিযোগে ক্লাবটির ওপর আরও ১৩টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আবাহনীর বহাল থাকা একমাত্র নিষেধাজ্ঞাটি গত বছরের ২১শে নভেম্বরের। আর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের দু’টি নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের ২৪ ও ২৭শে মার্চের। ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্লাব নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারে না। একইসঙ্গে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাব লাইসেন্স পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন মৌসুমে দল গড়া ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া= দু’টিই কঠিন হয়ে যায় ক্লাবগুলোর জন্য।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মূল পথ হলো অভিযোগকারী খেলোয়াড়, কোচ বা এজেন্টের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা। কোনো জরিমানা থাকলে সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। এরপর অর্থ পরিশোধ ও সমঝোতার প্রমাণ ফিফায় জমা দিলে ডিসিপ্লিনারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে, ২১শে আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা নতুন ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমের। এরপর ২৪শে আগস্ট মাঠে গড়ানোর কথা ফেডারেশন কাপের। আর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের প্রথম রাউন্ড শুরু ২৮শে আগস্ট। এর আগে নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিং জটিলতা কাটিয়ে ক্লাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে মৌসুমে নামবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে বাফুফের সভাপতি জানিয়েছেন, দলবদলের সময়সীমা বাড়ানো হলেও মৌসুর শুরুর দিনক্ষণ কোনোভাবেই পেছানো হবে না’। নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে কয়েক রাউন্ড লীগ খেলাতে চান বাফুফে বস। ১৭ তারিখে দলবদল শেষ করে কীভাবে ২১ তারিখ মাঠে নামবে ক্লাবগুলোÑ সেটাই এখন দেখার বিষয়।
