সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এমএ ও এমএসএস’র কেন্দ্র স্থানান্তরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কোর্সের অন্তত ১৭ জন শিক্ষার্থী কেন্দ্র স্থানান্তরের আপত্তি জানিয়ে বাউবি’র ডিন বরাবর আবেদন করেছেন। বাউবি’র সিলেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন- পরীক্ষা গ্রহণের ব্যয় কম থাকার কারণে এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে কেন্দ্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে; অস্বীকৃতি জানানো হয়নি। ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বলা হয়েছিলো। বাউবি’র এমএ ও এমএসএস কেন্দ্র সিলেট এমসি কলেজে ছিল। তিন বিষয়ে কোর্সের একটি ফাইনাল পরীক্ষা এ কলেজের কেন্দ্রেই হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচের প্রিলিও কলেজে হয়েছে।
সম্প্রতি সময়ে বাউবি সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তারা এমসি কলেজ থেকে কেন্দ্র সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ উন্মৃক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা ব্যয় সংকোচন সহ নানা বিষয়ের পাশাপাশি এমসি কলেজের অস্বীকৃতির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বাউবি আঞ্চলিক কেন্দ্রের পাশাপাশি ক্যাম্পাস হওয়ায় দক্ষিণ সুরমা কলেজে কেন্দ্র করারও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। বিষয়টি জানার পর এমএম ও এমএসএস পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে এবং যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে গত ১৩ই জুলাই বাউবি’র সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের ডিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেন ১৭ জন শিক্ষার্থী। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন- এমসি কলেজে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় কোনো বাস্তব সমস্যা নেই। বরং প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, পরীক্ষার খাতা ও অন্যান্য পরীক্ষাসামগ্রী আনা-নেয়াসহ প্রশাসনিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার বিষয়টি কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে কি না তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক সুবিধার কারণে শত শত পরীক্ষার্থীর যাতায়াত, আবাসন, সময়, আর্থিক ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ানো হলে সেটি শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্ত হবে না। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজে কেন্দ্র স্থানান্তর করা হলে অনেক পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি যানজটের কারণে পরীক্ষার দিন সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নারী, বয়স্ক ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত পরীক্ষার্থীদের জন্য এ ভোগান্তি আরও বেশি হবে।
এদিকে এমসি কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন- বাংলা, ইসলাম শিক্ষা ও সমাজবিজ্ঞান এই তিনটি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেতে এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ বাউবি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে চিঠি-পত্র আদান-প্রদান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তিন বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। বাউবি সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মো. মোকছেদার রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন- এমসি কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র রাখতে আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যয় কম থাকার দোহাই দিয়ে পরীক্ষা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
এখন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়ে দক্ষিণ সুরমা কলেজও কেন্দ্র নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে জানান- তিনি। তবে এমসি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর আকমল হোসেন জানিয়েছেন- এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নেবে না এমন অস্বীকৃতি জানাতে পারে না। জানায়ও নি। তবে ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা বলা হয়েছিলো। তিনি বলেন- কেন্দ্র দিলে পরীক্ষা নেয়া হবে। অতীতে তো নেয়া হয়েছে।
