রোনালদোর ‘আর্জেন্টাইন’ জামাই হওয়ার গল্প

১০ বছরের প্রেম, পাঁচ সন্তান, অতঃপর নিঃশব্দে ‘হ্যাঁ’

রোনালদোর ‘আর্জেন্টাইন’ জামাই হওয়ার গল্প

ফন্ট সাইজ:

পুরো পর্তুগাল জল্পনায় মশগুল। ফুনশাল না সিনেত্রা-কোথায় বসবে রোনালদোর বিয়ের আসর। ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে একেবারে নিঃশব্দে কাজটা সেরে ফেললেন সিআর সেভেন। লিসবনের অদূরে ছবির মতো সুন্দর উপকূলীয় শহর কাসকাইসে মঙ্গলবার গোপনে বিয়ের বন্ধনে জড়ান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত জর্জিনাকে বিয়ে করে আর্জেন্টিনার জামাই বনে গেলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। বিয়েটা হলো ঠিক বাগদানের একবছরের মাথায়, দিনের হিসাবেও মিলে গেল অদ্ভুতভাবে। গত বছরের ১১ই আগস্ট বাগদানের খবর জানিয়েছিলেন জর্জিনা। এবার ১১ই আগস্টেই বসলো বিয়ের আসর। কাসকাইসে দম্পতির নিজস্ব একটি ভিলা আছে, সেখানেই ঘরোয়া পরিবেশে সারা হয় অনুষ্ঠান। না ছিল কোনো ক্যামেরা, না ছিল কোনো অতিথির ভিড়Ñশুধু উপস্থিত ছিল তাদের পাঁচ সন্তান।

অনুষ্ঠান শেষে অবশ্য ভক্তদের খালি হাতে ফেরাননি রোনালদো। রাতে নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি, যেখানে জর্জিনার হাতের ওপর হাত রেখেছেন পর্তুগিজ তারকা, দুজনের আঙুলেই ঝলমল করছে বিয়ের আংটি। ক্যাপশনে লেখেন শুধু ‘সি’ আর ‘জি’, মাঝে একটি হৃদয়ের ইমোজি। পোস্ট হওয়ার ৪০ মিনিটের মধ্যেই তাতে পড়ে যায় ৪০ লাখেরও বেশি লাইক।

এক বছর আগে বাগদত্তা হওয়ার খবর জানাতে গিয়ে জর্জিনাও কম আবেগঘন ছিলেন না। বড় আকারের আংটির ছবি পোস্ট করে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনেও, আর আমার বাকি সব জীবনেও।’ বাগদানের সময় রোনালদো নিজেও ব্যাখ্যা করেছিলেন কেন এত বছর পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন। তার ভাষায়, ‘এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মনে হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার এটাই সঠিক সময়।’ অথচ বিয়ের কয়েকদিন আগেই একরকম প্রহসনের জন্ম দিয়েছিল গুঞ্জন। রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরা দ্বীপের ফুনশাল ক্যাথেড্রালেই নাকি বসতে যাচ্ছে বিয়ের আসর। এমন খবরে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন গির্জার সামনে। পরে ফুনশাল ক্যাথেড্রাল কর্তৃপক্ষ সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানায়, তাদের ওখানে এমন কোনো অনুষ্ঠানের সূচি নেই। মজা করে সেই পোস্টে হাসির ইমোজিও দিয়েছিলেন রোনালদো নিজে।

২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি শো-রুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করা জর্জিনার সঙ্গে তখন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা রোনালদোর পরিচয় হয়েছিল ঠিক এভাবেই। এরপর একসঙ্গে পথচলা শুরু, ২০১৭ সালে জনসমক্ষে প্রথম হাজির হন তারা ফিফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। এক দশকের সেই সম্পর্ক অবশেষে পূর্ণতা পেল বিয়ের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ৯৭৬ গোল করেছেন রোনালদো। স্পোর্তিং সিপি, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ঘুরে এখন খেলছেন সৌদি ক্লাব আল নাসরে। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৪৬, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনো সর্বোচ্চ। কদিন আগেই নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে এসেছেন এই পর্তুগিজ তারকা।