লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুর ভোগান্তিতে নগরবাসী

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। একদিকে গরম অন্যদিকে লোডশেডিং, এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। দিন ও রাতে সমান তালে থাকছে না বিদ্যুৎ। আধাঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে, এক ঘণ্টাই নেই। এতে করে যেমন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে, ঠিক তেমনি রাতের বেলায় গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে না পেরে সময় মতো অফিস করতে পারছেন না চাকরিজীবীরা। বিশেষ করে পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মানুষজন। রান্নায় ব্যবহার করা ইলেক্ট্রিক চুলা ও রাইসকুকার ব্যবহারকারী গৃহিণীদের বেশ ভোগাচ্ছে এই লোডশেডিং।

হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে চরম বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসক-নার্সরা ও রোগীর স্বজনেরা। এছাড়াও স্থবির হয়ে পড়েছে রংপুরের ছোট ছোট কারখানাগুলোও। এদিকে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই লিমিটেড-নেসকো জানিয়েছে প্রতিদিন রংপুর নগরীতে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে ৫০ মেগাওয়াট। এ সমস্যা কবে নাগাদ সমাধান হবে তার উত্তর জানেন না নেসকো কর্মকর্তা। নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা গৃহিণী শাবনাজ বেগম বলেন, বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ নেই। সকালে সময় মতো খাবার রান্না করতে পারছি না। পায়রা চত্ত্বরের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, আমার ব্যবসাই হচ্ছে বিদ্যুৎ নির্ভর।

দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না, যার ফলে আয়-রোজগার একদম কমে গেছে। কর্মচারীদের বেতন দেবো কি, আর দোকান ভাড়া কোথা থেকে দেবো। নিজের কথা তো নাই বললাম। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের মহানগর সভাপতি এড. জোবাইদুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রংপুরের প্রত্যেক স্তরের মানুষদের এখন নাজেহাল অবস্থা। লোডশেডিং সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা গেলে রংপুর নগরীর অবস্থা আরও অবনতি হবে। নেসকো রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, লোডশেডিং শুধু রংপুরেই নয় এ সমস্যা দেশব্যাপী। কবে এ সমস্যার সমাধান হবে জানি না। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে খুব দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি।