নোয়াখালী পৌরসভার এক উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী আলী হায়দারের বিরুদ্ধে পৌর সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকদের সঙ্গে অহরহ অসদাচরণ, অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করছেন নোয়াখালী পৌরসভার খোদ প্রশাসক ফেরদৌসী বেগম।
অভিযোগ রয়েছে, আলী হায়দার বিগত ২০১০ সালে নোয়াখালী পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করে একদিনের জন্যেও বদলি হয়নি অন্য কোথাও। সূত্র জানায়, আওয়ামী সরকারের একজন মন্ত্রীর পরিবারের স্বজন হওয়ার সুবাদেই দিনের পর দিন বদলি প্রথা কার্যকর ছিল না তার খাতায়। পৌরবিধি লংঘন করে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একইস্থানে বহাল থাকার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকদের অনেকে। জানা যায়, দীর্ঘদিন একই জায়গায় বহাল থাকার কারণে স্থানীয় দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের সঙ্গে তার একটি দহরম-মহরম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমন সম্পর্কের কারণে দুর্নীতিপরায়ণ ঠিকাদাররা অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করার পরেও খাতাপত্রে সংঘটিত ত্রুটিপূর্ণ কাজের মান সঠিক বলে প্রকাশ করেছেন কাজী আলী হায়দার।
পক্ষান্তরে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী হায়দারের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিপরায়ণতার কারণে যেত তেন ধরনের কাজ দেখিয়েও পৌরসভার বিপুল অঙ্ক লোপাট করছেন ঠিকাদাররা। এ ছাড়া পৌরসভার গোপনীয় নথির বিষয়বস্তুও বাইরে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও তার আচার-আচরণ সন্তোষজনক নয়। যাতে সরকারের সুনাম ও সুখ্যাতি বিনষ্ট হয়ে চলছে। পৌর প্রশাসক গত ৪ঠা জুন তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে প্রেরিত একপত্রে কাজী আলী হায়দারকে নোয়াখালী পৌরসভা হতে বদলি সংক্রান্ত অনুরোধপত্রে এসব কথা উল্লেখ করেছেন। জানা যায়, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন শাখায় আর্থিক জোগান দিয়েই নিজেকে একইস্থানে বহাল রাখছেন বছরের পর বছর। এ বিষয়ে আলী হায়দারকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন না ধরায় তার মতামত জানা যায়নি।
