সিলেটে ১৫ দিনেও ধরা পড়েনি নিহত আব্দুল্লাহ’র খুনিরা

সিলেটে ১৫ দিনেও ধরা পড়েনি নিহত আব্দুল্লাহ’র খুনিরা

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে তরতাজা যুবক আব্দুল্লাহ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। এক সন্তানের জনক। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করেছিল ঘাতকরা। ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। পুলিশ বলছে- ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে খুনিরা। তাদের ধরতে পুলিশ, র‌্যাব কাজ করছে। ঘটনা গত ২৭শে জুলাই সকালে। সিলেট শহরতলীর হাটখোলা ইউনিয়নের শিবেরবাজারের পার্শ্ববর্তী দিঘিরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক আহমদ পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মবশ্বির আলীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন মবশ্বির আলী ও লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় বিরোধপূর্ণ ভূমিতে যায়। এ সময় নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন বাঁশ কাটতে বাধা দেন।

এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন সকালে গ্রামের শাহীন পাশা, নাঈম আহমদ, মবশ্বির আলী সহ কয়েকজন নিজ বাড়ির উঠোনে আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তারা আব্দুল্লাহ’র মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থান কুপিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে মৃত ভেবে তারা চলে যায়। ঘটনায় গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ সহ কয়েকজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আব্দুল্লাহ। এদিকে ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের পক্ষে মাহফুজ আহমদের ছেলে ফারুক আহমদ বাদী হয়ে শাহীন পাশা, নাঈম আহমদ, মবশ্বির আলী, নিজাম উদ্দিন, ইমন আহমদ, হাসান, আফিয়া বেগম, কামাল আহমদ, আলাই মিয়া সহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ফারুক জানান- আসামিদের সঙ্গে তাদের জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ রয়েছে।

আসামি মবশ্বির আলী সহ তাদের পক্ষের লোকজন আগেও কয়েকবার জোরপূর্বক ভূমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করে। এ ঘটনায় আব্দুস শুকুর বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা দায়ের করার পর আসামিরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন আসামিরা দা নিয়ে জমিতে অবস্থিত বাঁশঝাড়ে দুইটি বাঁশ কেটে নিতে গেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন নিষেধ করেন। এ সময় আসামিরা তাদের হাতে থাকা ধারালো রামদা, লোহার রড দিয়ে বাড়ির উঠানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলা চালায়। তারা দলবেঁধে আব্দুল্লাহকে কোপায়। এক পর্যায়ে বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তিনি বলেন- হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি আব্দুল্লাহকে। রাতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঘটনার পরও ওইদিন তাদের বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী মারজানা বেগম জানিয়েছেন- তার স্বামী নগরের জিন্দাবাজারে ব্যবসা করতেন। তিনি প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ি থেকে দোকানে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় আসামিরা তার সামনেই কুপিয়ে স্বামী আব্দুল্লাহকে খুন করে। এ সময় তার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি ৮ মাসের শিশু সন্তানের ওপরও টর্চার করা হয়। এদিকে মামলা দায়েরের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে আসামিরা। তারা এলাকায় নেই।

জালালাবাদ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আসামিদের ধরতে তাদের বাড়ি, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে একাধিক বার অভিযান চালালেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও র‌্যাব মিলে অভিযানে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানও। কিন্তু আসামিদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন- পুলিশ অভিযানে রয়েছে। যেখানেই থাকুক আসামিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের পর বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত পুলিশ করছে বলে জানান। এদিকে আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত সোমবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন মামলার বাদী ফারুক। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও চার্জশিট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।