বানিয়াচংয়ে ৪ রোডে সিএনজি চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

বানিয়াচংয়ে ৪ রোডে সিএনজি চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

ফন্ট সাইজ:

অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ, বানিয়াচং-নবীগঞ্জ এবং বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জসহ প্রধান চারটি সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওইসব সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ চরম বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ অচলাবস্থা চললেও সংকট নিরসনে দায়িত্বশীল কেউ এগিয়ে না আসায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ‘অভিভাবকহীন এলাকা’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সরজমিন দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে সিএনজি অটোরিকশা না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত টমটমে (ইজিবাইক) যাতায়াত করছেন। এই সুযোগে টমটমচালকরা মেতে উঠেছেন ভাড়ার নৈরাজ্যে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে, আঞ্চলিক সড়কে এসব ধীরগতির ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের কারণে প্রায়শই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের এই দ্বন্দ্বের জেরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করছেন। ভুক্তভোগী বানিয়াচং আইডিয়াল কলেজের প্রভাষক জসিম উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষুব্ধ অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিদ্যুতের ভোগান্তির সঙ্গে এখন যুক্ত হলো যাতায়াত সমস্যা। অথচ এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই! বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান আদৌ হবে কি না জানি না, তার ওপর এবার দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত সমস্যার সম্মুখীন আমরা।’ তিনি নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরও বলেন, ‘হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচং আসছি ব্যাটারিচালিত অটো দিয়ে।

সামনের সিটে চালকসহ গাদাগাদি করে বসলাম তিনজন। ভাড়া নিলো ৭০ টাকা। অনেকেই আবার ৮০, ৯০ এমনকি ১০০ টাকা দিয়েও বাধ্য হয়ে যাওয়া-আসা করছেন। অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও লাগছে দ্বিগুণ। ব্যাপার না, এই কষ্টগুলোতেই এখন অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি আমরা। এমনকি যদি কোনোদিন হেঁটেও যাওয়া-আসা করতে হয়, তবুও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, অভিভাবকহীন এলাকায় জন্মগ্রহণ করে আমরা যে এখনো বেঁচে আছি, এটাই তো অনেক কিছু! দীর্ঘদিন ধরে এই নরক যন্ত্রণা চললেও তা সমাধানের জন্য কেউ এগিয়ে আসছে না। এমনকি প্রশাসনও এখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।’