চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ডাম্পট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই গাড়ির চালক ও ডাম্প ট্রাকের এক হেলপার রয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে বানিয়াচোঁ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মোড়ের পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রাকেশের পাড় এলাকার মৃত সফিকুল ইসলামের ছেলে ডাম্পট্রাকের মালিক ও চালক আব্দুল ওহাব (৪৫), গাইবান্ধা সদর উপজেলার মধ্যধানগড়া বল্লমজার গ্রামের রাজামিয়ার ছেলে বাসচালক কামাল হোসেন (৪২) এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের সালাউদ্দীন আহমেদের ছেলে ট্রাকের হেলপার শোভন (৩৫)। নিহত আব্দুল ওহাবের চাচাতো ভাই মো. শাহজাহান জানান, আব্দুল ওহাব ডাম্পট্রাকটির মালিক ও চালক ছিলেন।
তিনি আলীগঞ্জ থেকে বালু নিয়ে লালমাই যাচ্ছিলেন। গুরুতর আহতরা হলেন, নীলফামারী এলাকার মৃত নোমান আলীর ছেলে মো. শহিদুল্লাহ (৬০), তার স্ত্রী আঞ্জুমান আক্তার (৫০) এবং রংপুরের রাধানগর এলাকার মৃত মঞ্জু মিয়ার ছেলে লিমন (২০)। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুর থেকে চাঁদপুরগামী আল-আরাফাহ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী নৈশ কোচ বানিয়াচোঁ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আলীগঞ্জ থেকে লালমাইগামী বালুভর্তি ডাম্পট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসটি ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’টি যানই সড়কের উপর ছিটকে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। সংবাদ পেয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষের কথা জানা গেলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
