রাজনগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল নিয়ে উপজেলা পরিষদে উত্তেজনা

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের রাজনগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী বাছাই ফলাফলের প্রকাশের পর উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং চলাকালে সরকার বিরোধীদের বাছাই করা হয়েছে-অভিযোগে যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরিষদে জড়ো হলে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও শোনা গেছে। আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে থাকা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী ও অন্য নেতারা পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে, বাছাইকরণে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের নিচ তলায়।

জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে বিএনপি’র সরকারের ফ্যামিলি কার্ড শুমারির স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে সুপারভাইজার পদে ৮৮ জন ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৬৭০ জন নারী-পুরুষ আবেদন করেন। এদের মধ্যে ৮ ইউনিয়নের জন্য অপেক্ষমাণসহ ৮ জন ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে অপেক্ষমাণসহ ৮২ জন নারী-পুরুষ বাছাই করা হয়। সোমবার গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেসবুক পেজে ও ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। ফেসবুক পেজে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা দেখে বিএনপি-যুবদলের নেতকার্মীরা হতাশ হন। তাদের দাবি, এ তালিকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জামায়াতের কর্মীদেরই স্থান দেয়া হয়েছে। এটি বিএনপি সরকারের নির্বাচনী এশতেহারের একটি অংশ। নির্বাচনী প্রচারণায়ও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এটি বাস্তবায়নে যদি বিএনপি বিরোধীদের স্থান দেয়া হয় তাহলে তো তারা (বিএনপি বিরোধী) তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটাবে। এদিকে এ অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন সময়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ মো. রুকন ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুব আল জামালের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদে জড়ো হন এবং বিএনপি বিরোধীদের স্থান দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ও বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যুবদলের সদস্য সচিব রুকন আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ জানান। তিনি লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রুকন আহমদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড প্রদান বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। এটি শুমারির জন্য যদি বিএনপি ও সরকারবিরোধী লোকজন নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে বিএনপি’র নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

এখানে অনেক যোগ্য লোকদের বাদ দেয়া হয়েছে সুকৌশলে। এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল। আমি তাদেরকে শান্ত করেছি এবং বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে বসেছিলাম। তারা তাদের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত দেয়ার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার জানিয়েছেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছি। কিছু অভিযোগ এসেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।