গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে ৪টি খেয়াঘাট রয়েছে। তারমধ্যে ২টি খেয়াঘাট রয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ। যা এক সময় প্রতি বছর ইজারা প্রদান করা হতো। বিগত কয়েক বছর ধরে এই খেয়াঘাটগুলো প্রকাশ্যে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী আরও জানান, দু’টি খেয়াঘাট চার লাখ টাকা এবং অপর দু’টি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত না করেই প্রতি বছর গোপনে ইজারা হয়ে থাকে। এই খেয়াঘাটগুলো সরকারিভাবে ইজারা না হওয়ায় প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
প্রতিদিন হাজারের অধিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহ রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থে ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সাধারণ নৌকায় পারাপার করেন ঘাটের দায়িত্বে থাকা মাঝিরা। খেয়াঘাট পারাপারের মানুষজন জানান, হাজীরঘাট ইজারা নিয়েছে জাভেদ মণ্ডল। প্রতি বছর পারাপারের জন্য এলাকার ৫শ’ পরিবার বছরে ১ মণ করে ধান জমা বাঁধা রয়েছে। জমার বাহিরে লোক পারাপারে প্রতি মানুষ ১০ টাকা, ভ্যান ৩০ টাকা ও মোটরসাইকেল ২০ টাকা করে এক পারে নৌকা ভাড়া বাবদ নেয়া হচ্ছে। বাকি তিনটি ঘাটেরও একই অবস্থা বলে জানায়- স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র বর্মণ জানায়- চারটি ঘাটের মধ্যে ২টি ঘাট আমার জানা আছে। তার মধ্যে চকবালা মৌজায় ঋষিঘাট যার দাগ নং ১৭ জমির পরিমাণ ২১,৭১ শতক। হাসানখোর মৌজায় হাজীরঘাট, যার দাগ নং ২৯৩, জমির পরিমাণ ৭.৬৮ শতক। এছাড়া ২টি ঘাট রয়েছে, সুলতানপুর ঘাট ও অলিরঘাট। এই ৪টি খেয়াঘাট কোথায় কীভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে তা চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কেউ জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। অধিক পরিমাণে টোল আদায়ের ফলে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ অপরদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
