আগামী ২০শে আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে ৩৪৯ জন জাতীয় সংসদ সদস্য ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণের জন্য থাকবে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। ভোটগ্রহণ শেষে একই কক্ষে ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ২০শে আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পৌঁছে দেবেন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার পর সদস্যরা সামনে রাখা তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ব্যালট জমা দিতে পারবেন।
আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনে মোট ব্যালট থাকবে ৩৪৯টি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। গণনা শেষে সেখানে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন সিইসি। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত ৬ই আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল ১৩ই আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ই আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ই আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে।
প্রায় ৩৫ বছর পর ভোটের লড়াই: দীর্ঘ সময় পর এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি ভোটাভুটির এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হয়নি। এতদিন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী এককভাবে থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় ২০শে আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ব্যালট পেপারে যা থাকবে: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যালট পেপারের কাঠামোও তুলে ধরেছেন ইসি সচিব। তিনি জানান, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশকে বলা হবে ‘মুড়ি’। এতে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। অপর অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। ভোটারকে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। নির্বাচনী কাজে নির্বাচন কমিশনের ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থেকে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদ সচিবালয় সমন্বয় করবে। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফল গণনার কার্যক্রম গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সংসদ থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকদের জন্যও নির্ধারিত আসনের ব্যবস্থা করা হবে। ইসি সচিব জানান, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সংবাদকর্মীরা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। দীর্ঘ বিরতির পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ সমাপ্তির পরপরই অধিবেশন কক্ষের ভেতরে রাখা ব্যালট বক্সগুলোর সামনেই সরাসরি ভোট গণনা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত চার বা পাঁচজনের গঠিত একটি ব্যালট গণক দল ব্যালট পেপার শর্ট আউট করে গণনা কার্যক্রম শেষ করবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্বাচনকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অধিবেশন কক্ষেই সরাসরি সবার সামনে ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে কমিশন সচিবালয়ে এসে অফিসিয়ালি ফলাফলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
