সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, গ্রামে তীব্র লোডশেডিং’। খবরে বলা হয়, জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ আছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।
বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
লোডশেডিংয়ের মূল কারণ গ্যাসের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের কম গ্যাস পাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লা সরবরাহের সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গ্যাস নেই, বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ এখনও গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম গ্যাস পাচ্ছে কেন্দ্রগুলো। জ্বালানি সংকট ও মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই চলছে আংশিক সক্ষমতায়।
একসময় গ্যাস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াটে। কিছুদিন আগেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানির অভাবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরেনি এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কাটি আসে গত ২১ জুলাই। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।
টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে। ১৫ দিন পর আংশিক মেরামতের মাধ্যমে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে টার্মিনালটি এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, টার্মিনালটির মেরামত শেষ হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটিই সংকটের শেষ নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে। একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে।
কয়লাতেও সংকট
বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করেছে কয়লা সরবরাহের জটিলতা। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কয়লা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রটি প্রায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটে। ঝাড়খণ্ডে বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।
দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল মানুষ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। অনেক এলাকায় দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে ফ্যান-এসি চালানো কিংবা পানির পাম্প চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইনভিত্তিক কাজ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। সিলেটে গতকাল সোমবার ২৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট। আগের দিন ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রোববার রাতে সিলেটের টুকের বাজারে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
বগুড়ার সান্তাহারেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বাড়ায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গ্যাস সংকট আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি যোগ হয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চাপ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যায়। আবার বিদ্যুৎ এলে মেশিন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে উৎপাদন খরচও।
গ্যাস বাড়াতে তাগাদা
লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। যেসব কেন্দ্র দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে পারবে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। এতে লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। তবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।
তেল দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা
গ্যাস ও কয়লার সংকট সামাল দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকির চাপ বাড়ে। তা ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলেও দীর্ঘ সময় এভাবে চালানো ব্যয়বহুল। তাই গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
দুই-তিন দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আশা করছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তিনি জানান, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আদানি পাওয়ারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।
অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
পুরোনো সমস্যার নতুন বিস্ফোরণ
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট আকস্মিক নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতার চাপের পুঞ্জীভূত ফল হিসেবেই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করে লোডশেডিং কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধান হবে না। দীর্ঘ মেয়াদে অযৌক্তিক ব্যয় কমানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত সচল রাখতে প্রয়োজনে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।’
স্থানীয় অবকাঠামোর দুর্বলতাও ভোগাচ্ছে
জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৪০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।
আড়াইহাজারে ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালে এটি চালুর কথা থাকলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। কোরিয়া থেকে বিশেষায়িত প্রকৌশলী দল এলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।
নতুন গ্রিডটি চালু হলে ভূলতা গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। তৈরি হবে বিকল্প সঞ্চালন পথ। এতে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকলে শুধু স্থানীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করে লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
প্রথম আলো
‘১৯ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক উচ্চ পাসের হারের পর দুই বছর ধরে ফলাফল কিছুটা নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার আরও কমেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার।
ফলাফল বিশ্লেষণে এবারও ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। কুমিল্লা ছাড়া আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। গণিতেও কয়েকটি বোর্ডে ফল তুলনামূলক ভালো হয়নি। দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সার্বিক পাসের হারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবিক বিভাগের দুর্বল ফল। এ বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি, অথচ পাসের হার বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় অনেক কম। ফলে মানবিক বিভাগের ফলও সামগ্রিক পাসের হার নিম্নমুখী হওয়ার বড় কারণ।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশ্নের ধরন, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতিও পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলে। আবার প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়ার পর পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হতে না পারা এবং ইংরেজি-গণিতে বড় দুর্বলতা বিদ্যালয়ে শিখন মান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল সোমবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছাত্রীরা
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। এবার জিপিএ–৫ ও পাসের হারের শীর্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। আর পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।
পাসের হার ও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা এগিয়ে। ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের প্রায় ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি এবং ছাত্র প্রায় ৪৭ হাজারের বেশি।
৫ লাখের কাছাকাছি অকৃতকার্য
গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলে এসএসসি পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ ৫ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন উত্তীর্ণ হতে পারেনি—পরীক্ষার্থীদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমে যাওয়ায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।
বেড়েছে শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। এবার ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ৪৮টি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস না করার ঘটনা বিদ্যালয়ভিত্তিক শিখন মান ও প্রস্তুতির ঘাটতির প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ইংরেজি-গণিতেই বড় ধাক্কা
এবারের ফলাফলে সার্বিক পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে ইংরেজি ও গণিতের দুর্বল ফল বড় ভূমিকা রেখেছে। কুমিল্লা ছাড়া আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭০ শতাংশ। সিলেট বোর্ডেও ইংরেজিতে পাসের হার প্রায় ৬৯ শতাংশ এবং গণিতে প্রায় ৭৬ শতাংশ।
এমনকি পাসের হারে শীর্ষে থাকা ঢাকা বোর্ডেও ইংরেজির ফল আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এবার ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৮ শতাংশের কিছু বেশি, যা গত বছর ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ইংরেজি ও গণিতে খারাপ করার কারণেই মূলত পাসের হার কমেছে। দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সরাসরি সার্বিক ফলাফলে পড়েছে।
মানবিকের দুর্বল ফল
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সবচেয়ে কম। ছাত্রদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ শতাংশের বেশি এবং ছাত্রীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলও মানবিকের তুলনায় ভালো। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ফলে এ বিভাগের তুলনামূলক কম পাসের হার সার্বিক ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
এসএসসির পাসের হারে গত দুই দশকে বড় ওঠানামা হয়েছে। ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে প্রায় ৭১ শতাংশে ওঠে। এরপর দু-এক বছর বাদে দীর্ঘ সময় পাসের হার ৮০ শতাংশের ওপরে বা কাছাকাছি ছিল; কোনো কোনো বছর তা ৯০ শতাংশও ছাড়িয়েছে।
গত বছর থেকে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এবার তা আরও কমে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। দীর্ঘ সময় উচ্চ পাসের হার থাকার পর টানা দুই বছর ফল কমার এই প্রবণতা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয় পর্যায়ের শিখনঘাটতি—সব কটিরই নতুন করে পর্যালোচনা দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।
তবে এবারের ফলাফলকে খারাপ বলতে রাজি নন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এবারের ফল সুন্দর হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।’
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, নির্মোহভাবে সেভাবেই মূল্যায়ন হয়েছে।
গত তিন যুগে এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। নব্বই দশকের শুরুর দিকে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতি চালুর সময় থেকে পরীক্ষার ফলাফলে আবার বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত পাসের হার ৬১ থেকে ৭৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। পরে প্রশ্নব্যবস্থায় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আবার পাসের হার তুলনামূলকভাবে কমে আসে। ২০০৮ সাল থেকে আবার পাসের হার বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে মাধ্যমিকে চালু হয় সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি, যা এখনো বহাল আছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ফলাফল বিশ্লেষণ করে শুধু কতজন পাস করেছে বা কতজন অকৃতকার্য হয়েছে, সেসবে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘পুলিশ প্রশাসনে মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাধাগ্রস্ত হয় পুলিশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রথম ছয় মাসেও পুলিশ সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। কাজের মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে ভেতরে-বাইরে। ফলে পুলিশের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। তৈরি হয়েছে গভীর সংকটও। শুধু তাই নয়, নিজেদের ওপর অর্পিত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারছেন না পুলিশ কর্মকর্তরা। নানা বিতর্কের পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না এই বাহিনী। এমন প্রেক্ষাপটে মাঠ পুলিশকে নিয়ে নতুন চিন্তা করছেন নীতিনির্ধারকরা। তারা জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীকে পেশাদার, গতিশীল ও জনমুখী হিসাবে গড়ে তুলতে হলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা বঞ্চিত হওয়ার কার্ড খেলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কর্মকর্তাদের কাজের সঠিক পারফরম্যান্স, সততা ও মাঠপর্যায়ের যোগ্যতাই মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের মূল্যায়ন ও পদায়নে যোগ্যতা, দক্ষতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সততাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তদবির বা কোনো ধরনের অযাচিত প্রভাব যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পুলিশ বিভাগে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ও সাবেক আইজিপি খোদা বকস চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, যাকে খুশি তাকে ওসি-এসপি পদে পদায়ন করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যরা বাদ পড়ছেন। তিনি বলেন, পুলিশ তার নিজের ওপর অর্পিত ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারে না। তিনি বলেন, বিচারক যেভাবে একজন আসামিকে জামিন দিতে পারেন, একজন ওসিও সেভাবে থানা থেকে আসামি জামিন দিতে পারেন। তদন্ত নিষ্পত্তির যথেষ্ট আইনি ক্ষমতা (সিআরপিসি অনুযায়ী) থাকা সত্ত্বেও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় তারা তা স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি ডিআইজি এবং আইজিপি থাকা অবস্থায় অনেক ওসিকে সিআরপিসি অনুযায়ী বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বলেছিলাম। কিন্তু কাউকে দিয়ে সেটি করাতে পারিনি।’
৫ আগস্টের আগে যারা নানা কারণে কোণঠাসা ছিলেন, তারা নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে ইতোমধ্যে কয়েক ধাপে পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। বাস্তবে তারা কোন প্রেক্ষাপটে বঞ্চিত ছিলেন এবং বর্তমানে তাদের পারফরম্যান্স কেমন-তার কোনো সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ হচ্ছে না। বঞ্চিত হওয়ার অজুহাতে পদোন্নতি পাওয়ার পর পরবর্তী প্রমোশনের ক্ষেত্রেও একই অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। অথচ কাজে তাদের দৃশ্যমান কোনো পারফরম্যান্স নেই। তাদের লবিং ও সুবিধাবাদী অবস্থান নেওয়ার কারণে যোগ্য কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠনে ১৩ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। যেখান থেকে বাহিনীতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের নির্দেশনা আসতে পারে। নিয়োগ, বদলি এবং পদায়নেও আসতে পারে নতুন নির্দেশনা। শুধু কনস্টেবল এবং এএসপি ছাড়া অন্যান্য পদে সরাসরি নিয়োগ না দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। এএসপি পদে যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা সবাই যাতে পদোন্নতি পেয়ে অন্তত ডিআইজি হতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখার চিন্তা-ভাবনা করছেন দায়িত্বশীলরা। তারা জানিয়েছেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসাবে বতর্মানে পুলিশ পরিদর্শকরা দায়িত্ব পালন করলেও এএসপিদের সেখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব থাকতে পরে।
কালের কণ্ঠ
‘ইংরেজি ও গণিতের প্রভাব ফলে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০০৮ সালের পর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বাড়তে থাকে পাসের হার ও জিপিএ ৫। তবে গত বছর সেই পাসের হারে ছন্দ পতন ঘটে।
চলতি বছরের ফলে দেখা যায়, গত বছরের চেয়েও পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে। গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার ৬.২০ শতাংশ কমেছে, ২০২৪ সালের চেয়ে কমেছে ১৭.৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ ৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন, ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে ৬৫ হাজার ৪৫৩ জন। এবারের পরীক্ষার ফলে ইংরেজি ও গণিতের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।
গতকাল সোমবার ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়। এ বছর পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। মোট অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবারের ফল খারাপের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, এবার যে ফল হয়েছে, সেটাই প্রকৃত ফল।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছরের পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই দুটি বিষয়ে বেশি খারাপ করেছে।
এতে বোর্ডভিত্তিক পাসের হার কমে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক ফলে, যা এ বছরের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ। শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষকরা বলছেন, এ বছর শিক্ষার্থীরা যা লিখেছে এর ওপর মার্কিং করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনোভাবেই ওভারমার্কিং করা হয়নি। আগে একজন পরীক্ষক ৪০০ থেকে ৫০০ খাতা পেতেন। এবার ৩০০-এর বেশি খাতা কাউকে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া খাতা দেখায় আগের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা লেখা পড়ে-বুঝে নম্বর দিয়েছেন।
গতকাল সচিবালয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দাবি করেন, ‘এবারের পরীক্ষার ফল খারাপ হয়নি। সুন্দর ফল হয়েছে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এবার যে যা নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে। মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না।’ এ বছর থেকে খাতা পুনর্মূল্যায়ন অর্থ শুধু নম্বর যোগ করা নয়, পুরো খাতা আবার দেখে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এ বছর যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তারা স্কুলজীবনের এক পর্যায়ে করোনার প্রাদুর্ভাবে পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। এরপর ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে উঠলে তারা নতুন শিক্ষাক্রমের বই পড়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে ২০১২ সালের কারিকুলামে ফিরে যাওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি বেড়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে খারাপ করেছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলার শিক্ষক যদি ইংরেজি-গণিত পড়ান, তাহলে তো এমন অবস্থা হবেই। গ্রামগঞ্জের চিত্র কিন্তু এ রকম। আমাদের নগরের স্কুলগুলোর ফল কিন্তু খারাপ না। এখন শহরের সঙ্গে গ্রামের যে বৈষম্য তা প্রকট হচ্ছে। এ ছাড়া করোনার পর থেকেই একটা বিপত্তিতে আছে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে তারা উঠতে পারছে না। শিক্ষাঙ্গনে একটা অস্থিরতা ছিল। সবকিছুর প্রভাবই ফলাফলে পড়েছে।’
সরকারকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়ে রাশেদা কে. চৌধূরী বলেন, ‘এই যে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারল না, তাদের ব্যাপারে একটা নিবিড় গবেষণা দরকার। সেই গবেষণার ভিত্তিতেই পরবর্তী পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষকসংকট দূর করতে হবে। গ্রাম-শহরের বৈষম্য কমাতে হবে।’
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ চায় ঢাকা’। খবরে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে এমন আশা করছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দফতরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। ভারতীয় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। একইসঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয় বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে সবই ইতিবাচক মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কূটনীতিক নই। আমরা বৈঠক করেছি বলা চলে, পাবলিক ফিগারের মতো, জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আরেক জনপ্রতিনিধির মতো। উনার সঙ্গে দেখা হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখায় আমার মনে হয়নি যে প্রথমবার আমি উনার সঙ্গে দেখা করছি। আর তিনি খুবই ভালো, খুবই হাম্বল অন দ্য গ্রাউন্ড।’
বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উই আর লুকিং ফরওয়ার্ড’। প্রধানমন্ত্রীকে সফরের জন্য আমাদের আমন্ত্রণ তো আগে থেকে আছে। আগেও উল্লেখ করেছি, ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আমরা খুবই ইতিবাচক। দুই নেতা একসঙ্গে বসলে, আলোচনা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
গণতন্ত্রে সবসময়ই নানা ইস্যু থাকবে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইস্যু না থাকলে ওইটা ডেমোক্রেসি না। আমাদের ইস্যু থাকবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই, ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক হলো উইন উইন সিচুয়েশন। তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস তো বদলাতে পারবেন না। আমাদের নেইবারহুড তো বদলাতে পারবেন না। আমি সবসময় বলি যে, আমরা শুধু সীমান্ত শেয়ার করি না, স্বপ্নও শেয়ার করি।
বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জন্যই আগামী দিন ভালো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন ভালোই হবে। ইস্যুজটা সর্ট আউট করতেই হবে দুই দিক থেকেই। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী, উনার সঙ্গে দেখা করে খুবই ভালো লাগলো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা হলো প্রথমবার। আমি দুই নেতার প্রতিই কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি এমন কোনও ইস্যু নেই যা আমরা বসে সমাধান করতে পারবো না। আর আমাদের মধ্যে এটা হলো- উইন উইন সিচুয়েশন। দুই দেশের মানুষ চায় সম্পর্ক ভালো হোক। আমার প্রধানমন্ত্রীও আমাকে সবসময় এটা বলেছেন যে সম্পর্ক ভালো থাকা বিশেষ দরকার। না হলে আমি কেন আসি?
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠকের বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৈঠকে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে কথা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে অবস্থান আমরা সেটা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সেটা আমাকে গতকালকেও (রবিবার) তারা জানিয়েছেন, আজকেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছেন।
নয়া দিগন্ত
‘বহাল থাকবে ব্যাংকের বাতিল পর্ষদ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতা কাটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(২) ধারায় পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের আদেশের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু ব্যাংক খাতের চলমান পুনর্গঠন, মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে এই দুই বছরের সীমা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষ ক্ষেত্রে ওই মেয়াদসংক্রান্ত বিধান থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সংশ্লিষ্টদের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭ (১) ধারায় কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কার্যকলাপ ব্যাংক বা আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী, ক্ষতিকর বা অনাকাক্সিক্ষত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত কারণ উল্লেখ করে ওই পর্ষদ বাতিল করতে পারে। একই সাথে আইনটির ৪৭(২) ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদ বাতিলের আদেশের মেয়াদ বাংলাদেশ ব্যাংক সময় বাড়াতে পারবে; তবে বর্ধিত মেয়াদসহ মোট মেয়াদ দুই বছরের বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে যেসব ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন পর্ষদ বসিয়েছিল, সেসব ক্ষেত্রে চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সময়ের মধ্যে দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পর্ষদ বাতিল রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতাই এখন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ দিকে বিগত স্বৈরাচারের আমলে দেশের আর্থিক খাত বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাটের নৈরাজ্য, অনিয়ম, সুশাসনের ঘাটতি ও ব্যাংক লুটেরা এস আলমের ব্যাংক দখল ও জনগণের আমানতের অর্থ ঋণের নামে বের করে পাচার করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তবর্তীকালীন সরকার এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের প্রভাবমুক্ত করতে একের পর এক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকটি ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত পর্ষদ গঠন করা হয়। মোট ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে দুই বছর আগে ভেঙে দেয়া পর্ষদগুলোর মেয়াদ চলতি বছরে শেষ হওয়ার পর্যায়ে আসে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই প্রথম বড় উদাহরণ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। প্রায় দুই বছর স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর গত জুলাইয়ে ব্যাংকটির পর্ষদে উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালককে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করে।
এখানেই গতকালের প্রজ্ঞাপনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। একদিকে দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিছু ব্যাংকের পর্ষদ মালিকপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য দিকে বিশেষ পরিস্থিতিতে পর্ষদ বাতিলের মেয়াদসংক্রান্ত আইনি সীমা থেকে অব্যাহতি দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এর অর্থ হলো সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই ধরনের সমাধান আরোপ না করে যেসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে পুনর্গঠন, একীভূতকরণ, মালিকানা যাচাই, সম্পদ পুনরুদ্ধার বা সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ, সেগুলোকে আলাদা ব্যবস্থায় রাখার সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া এর সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পর্কিত। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে নতুন কাঠামোর অধীনে নেয়ার উদ্যোগ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো মালিকানা ও পর্ষদ কাঠামো নিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সুযোগ সীমিত। ফলে এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রশ্নটি শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতার সাথেও যুক্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, পর্ষদ বাতিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা। আইনটির ৪৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদ বাতিল থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যক্তিকে নিয়োগ করবে, তিনি পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এই ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হলে অন্য প্রশ্নও সামনে আসে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার কতদিন পর্যন্ত স্থগিত রাখা যাবে? আবার অনিয়মের অভিযোগে সরিয়ে দেয়া পুরনো মালিকপক্ষকে পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিলে আমানতকারীর স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকবে? ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দ্বন্দ্বই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত ঋণ এখন ভয়াবহ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে শ্রেণিকৃত ঋণ প্রায় পাঁচ লাখ ৮৮৭ কোটি টাকায় উঠেছে এবং মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে হয়েছে ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু পর্ষদ পরিবর্তন করলেই ব্যাংকের সমস্যা শেষ হচ্ছে না; বিপুল খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং মূলধন ঘাটতি পূরণ-সবই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-দুই বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর যেসব ব্যাংকের পর্ষদ মালিকপক্ষের হাতে ফিরবে, তারা কি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে ‘মালিকানা’ এবং ‘পরিচালনার অধিকার’কে এক করে দেখলে চলবে না। প্রকৃত মালিকানা যাচাই, ঋণখেলাপি পরিচালক শনাক্তকরণ, সুবিধাভোগী মালিকানা বা আল্টিমেট বেনিফিশিয়াল ওনার (ইউবিও) যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের ঋণ ও লেনদেন পর্যালোচনা করেই নতুন পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন। কারণ অতীতে ব্যাংকের পর্ষদকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ থেকেই বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের জন্ম হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে একই গোষ্ঠী ব্যাংকের পর্ষদ, ঋণ অনুমোদন ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে- এমন অভিযোগও বহুবার উঠেছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছে ২৫ মার্কিন কোম্পানি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি থেকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো থেকে আর্থিক সেবা—বাংলাদেশের একাধিক খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে ঢাকায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ৪৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ঢাকায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠকে তারা সম্ভাবনাময় খাত, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ব্যবসার পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেবে বলে দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই সফরে এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি নির্দিষ্ট বিনিয়োগের অঙ্ক বা প্রকল্প ঘোষণা করেনি। ফলে সফরটিকে এখন পর্যন্ত সরাসরি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাংলাদেশে কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা যায়; তার প্রাথমিক অনুসন্ধান হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের আগে এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা মিলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গত রোববার ও গতকাল সোমবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে তারা।
আলোচনায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, অফশোর তেল-গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও হাই-টেক পার্ক, ফিনটেক, ব্যাংক-বিমা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প, লজিস্টিকস ও সেবা খাত গুরুত্ব পাবে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের একটি দল বাংলাদেশে এসেছে। তাদের দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।
জ্বালানিই প্রথম সারিতে
জানা গেছে, প্রতিনিধিদলের আগ্রহের তালিকায় সবচেয়ে ওপরে থাকতে পারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিষ্কার জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে। সরকার সম্প্রতি ২৬টি অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। গ্যাসের মূল্যনির্ধারণে ব্রেন্টের দামের সঙ্গে সংযোগ, মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা রাখা হয়েছে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে থাকা মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য অফশোর অনুসন্ধান নতুন বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এসব খাতে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মতো অনেক খাত রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ আছে। একই সঙ্গে যেসব খাতে তুলনামূলক কম জ্বালানি প্রয়োজন, সেগুলোকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা উচিত।
দেশ রূপান্তর
‘২৫ সদস্যের সিন্ডিকেট গড়ার চেষ্টা, জনপ্রতি চাঁদা ১৭ কোটি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশি কর্মীদের প্রথম ব্যাচ মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবে এমন খবরে অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে সিন্ডিকেটের থাবা ও তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিদের মালিকানাধীন এজেন্সি নিয়ে গড়ে ওঠে সিন্ডিকেট। তারা নানা অনিয়ম করায় ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এখন সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপিদলীয় এমপিদের মালিকানাধীন এজেন্সিসহ প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে ২৫ সদস্যের নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। দলের প্রভাবশালী ও মন্ত্রণালয়কেন্দ্রীক কয়েকজন এর সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার সুযোগ রাখা হয়নি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কম খরচে কর্মী পাঠানো হবে। এটাই সরকারের অঙ্গীকার।’
বায়রার সদস্যদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন করে বিএনপির পাঁচ এমপি ও এক নেতার মালিকানাধীন এজেন্সিসহ প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অথচ তুলনামূলক কম খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য এটি উন্মুক্ত থাকা উচিত, যাতে যে কেউ কর্মী পাঠাতে পারে। তারা জানান, সিন্ডিকেটে বিএনপির পাঁচ এমপি ও এক প্রভাবশালী নেতাকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের এজেন্সির ‘মেটকো এন্টারপ্রাইজ’, আলী আজগর লবীর ‘রুপসা এন্টারপ্রাইজ’, জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের ‘এয়ার ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল’, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ‘আলম সন্স লিমিটেড’, খন্দকার আবু আসফাকের ‘খন্দকার ওভারসীজ’ ও বিএনপি নেতা গফুর ভূইয়ার ‘সুরমা ইন্টারন্যাশনাল’ রয়েছে।
বায়রার সদস্যরা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটে জড়িত থাকায় আদালতে অভিযুক্ত রুহুল আমিন স্বপনের লাইসেন্স বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে তার লাইসেন্স রক্ষায়। সরকারের একটি অংশ এর সঙ্গে জড়িত। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে রুহুল আমিন স্বপন মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়া শুরু হলে জনশক্তি রপ্তারি করতে পারে। এর সঙ্গে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কেউ অথবা সরকারে থাকা কারও ইন্ধন থাকতে পারে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘হাসিনাকে দ্রুত ফেরত চাইল বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাসে তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বৈঠকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি বিশেষ অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জুনে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দিনেশ ত্রিবেদী এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন। এর আগে রবিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। শুরুতে দুই পক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও পরে আধা ঘণ্টার বেশি সময় তাঁরা একান্তে কথা বলেন। বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ঢাকায় ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেন দিনেশ ত্রিবেদী। এরপর ২৯ জুলাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেন। রবিবার দ্বিতীয়বারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল বলেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। সম্পর্ক ইতিবাচক পথে ফেরাতে এটাই পথ। পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা আর স্বার্থ সমুন্নত রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি এক দেশকে অন্য দেশের সংবেদনশীলতার প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা জরুরি।
সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানান দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অতীত পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে, যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়। পরে দিনেশ ত্রিবেদী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কেবল ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করি না, আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করি।’ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; নইলে সেটা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না। তবে সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের মূল প্রত্যাশা হলো একটি সুদৃঢ় ও চমৎকার সম্পর্ক, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর (উইন উইন সিচুয়েশন) পরিবেশ তৈরি করবে। হাইকমিশনার আরও বলেন, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না-দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই। তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান বন্দিবিনিময়, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সব চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান। তা ছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যত শিগগির সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। হাইকমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষানিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
