সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, পাশের জেলা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। রোববার দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই কারখানায় নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন সৌদি আরবের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। এর আগে রাতে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে।
এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। তবে বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা, সেটা নিহতের স্বজনরা বলতে পারেননি। সৌদি দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সৌদির কারখানায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেয়া হবে। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানান, খাজুরা ইউনিয়নে নিহতরা হলেনÑ খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯), দিঘীরপাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয় (২৮)। অগ্নিকাণ্ডে নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো নলডাঙ্গা উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন আরও জানান, নিহত তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মধ্যে একজন সাত মাস আগে দেশ থেকে সৌদি আরব যায়। তার ৪০দিন বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। অপর দু’জনের একজন ৫ বছর আগে, একজন তিন বছর আগে সৌদি আরব যায়। অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তানরা মানুষের নিকট থেকে ধারদেনা করেই বিদেশ যায়। এখনো তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতে ঋণ রয়েছে। সরকারের নিকট তিনি এসব ঋণ মওকুফ করার দাবি জানান।
