চট্টগ্রামে একসঙ্গে গোল্ডেন-এ প্লাস পেলো যমজ দুই বোন

চট্টগ্রামে একসঙ্গে গোল্ডেন-এ প্লাস পেলো যমজ দুই বোন

ফন্ট সাইজ:

তিন বোনের মধ্যে যমজ দুই বোন পূর্ণতা পাল ও প্রভা পাল। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় দু’জনই পেয়েছে গোল্ডেন এ-প্লাস। গতকাল সকালে ফল প্রকাশের পর মা’কে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসে তারা। ফলাফল হাতে পাওয়ার পর আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাদের মা লাবণ্য প্রভা পাল। পূর্ণতা ও প্রভা পাল নগরীর দেওয়ানবাজার ডুংঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তাদের বাবা রূপম কিশোর পাল। ফলাফল নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে যমজ দুই বোন জানায়, এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে তাদের মধ্যে অনেকটাই ভয় কাজ করেছিল। বিশেষ করে স্বল্প সিলেবাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। ফল প্রকাশের পর পরিবারের আনন্দের কথা বলতে গিয়ে প্রভা পাল বলে, ‘আসলেই সবাই অনেক খুশি। রেজাল্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিয়েছেন। বাবা তো আরও বেশি খুশি।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে দুই বোন জানায়, উচ্চশিক্ষার জন্য তারা দেশের বাইরে যেতে চায়। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে সেখানেই স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

তারা বলে, ‘আমাদের দু’জনেরই ইচ্ছা দেশের বাইরে গিয়ে পড়ালেখা করা এবং সেখানে সেটেল হওয়া। পরিবারেরও ইচ্ছা, আমরা যা করলে আমাদের জন্য ভালো হবে, সেটাই যেন করি। তারাও চায় আমরা ভালোভাবে পড়ালেখা করে দেশের বাইরে যাই।’ এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল নিয়েও উচ্ছ্বসিত পূর্ণতা ও প্রভা। তারা জানায়, নিজেদের স্কুল বোর্ডে শীর্ষে থাকায় তাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।

দুই বোন বলে, ‘অনেক ভালো লাগছে। আমাদের সময়ে আমাদের স্কুল ফার্স্ট হয়েছে- এটা সবাই বলতে পারে না। স্কুল যাতে প্রথম হয়, সেজন্য আমরাও আমাদের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। স্বাভাবিকভাবেই এজন্য আমরা অনেক খুশি।’ যমজ দুই মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত তাদের মা লাবণ্য প্রভা পাল। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা আমার কষ্ট সফল করেছে। আমি অনেক খুশি। এর চেয়ে আর কিছু বলার নাই।’ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৭ জন। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার বলেন, ‘এবারের ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক দিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষে রয়েছে। ফলাফলও ভালো হয়েছে।’

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বোর্ডের প্রকাশিত ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফলের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। ছাত্রদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশে। বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও অবনতি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে কমে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে কমে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। বোর্ডের অধীন কক্সবাজারে পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় পতন হয়েছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। এবার এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।

এদিকে ২০২৫ সালে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ২১টি।চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ জন। এবার পরীক্ষার্থী হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে ৯ হাজার ৭০৬ জন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন