সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে

ফন্ট সাইজ:

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার কমেছে। এই ফলাফলকে বিপর্যয় বলছেন অনেকেই। ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট সবাই। কেন এমন হলো- এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শিক্ষকরা বলছেন, ২০২৬ এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বছরের কারিকুলামে পরীক্ষা দিয়েছে। এ ছাড়া ৫ম, ৮ম শ্রেণিতে তারা বৃত্তি বা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। দফায় দফায় হয়েছে কারিকুলাম পরিবর্তন। পাশাপাশি গণিত ভয় শিক্ষার্থীদের ফলাফলের অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করেছে। এ কারণে পাসের হার কমেছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে ফলাফল খারাপ হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করেছে ৫৮.৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। যা গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। সিলেটে পাসের হার কমা প্রসঙ্গে ফলাফল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান, এবার মন্ত্রণালয়ের অর্ডার ছিল, প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর। সে অনুযায়ী সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লিন ও ক্লিয়ার পরীক্ষা দিয়েছে। আমার মনে হয়, সেই মোতাবেক ফলাফল আসছে। তিনি বলেন, বাচ্চারা যতটুকু পড়েছে সেই অনুযায়ী ফলাফল এসেছে। আমাদের মূল্যায়নে কোনো বৈষম্য হয়নি। এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অধিক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল। তারাই বেশি ফেল করেছে। তবে পাসের হার কমলেও এবার সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। আর ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ৫৬৫ জন, ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৪৫২ জন, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৭১ জন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা। সিলেটে এবার ৯ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সিলেট জেলায়। এ জেলায় পরীক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৩৩১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ৩২১ জন এবং ছাত্রী ২১ হাজার ১০ জন। জেলার ৩৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৯৪টি। মৌলভীবাজারে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ হাজার ৯১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৬৩১ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ২৮২ জন। জেলার ১৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। সুনামগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ হাজার ৩৮৩ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৫১৫ জন এবং ছাত্রী ১০ হাজার ৮৬৮ জন। জেলার ২৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৪৫টি। হবিগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ হাজার ৭৯৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৬৩ জন এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৭৩১ জন। জেলার ১৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন