প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে পুরো মাত্রার যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া নতুন করে ৫ লাখ যোদ্ধা সমাবেশ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই সেনা সমাবেশ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে পুতিনের।
গত মাসে স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছিলেন, পুতিন এই যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন। আমাদের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তিনি নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২১ সেপ্টেম্বর দুমা নির্বাচন (রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচন) শেষ হওয়ার পর তিনি এটি করতে চান।
জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে নতুন সেনা সমাবেশ করবেন না, কারণ তিনি “নিজের সমাজকে ভয় পান”। একই সঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেয়া রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে “অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষ” পাঠানো হতে পারে বলে সতর্ক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, এর অর্থ দাঁড়াবে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি।
পুতিন ‘শেষ বিকল্প’ ব্যবহার করতে পারেন
এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা অব্যাহত রাখার মধ্যে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে পুতিন তার “শেষ বিকল্প” পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আনাদোলুর ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ফিদান বলেন, যখন সম্মুখভাগের ক্ষয়যুদ্ধ পেছনের ভূখণ্ডেও ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন আর যুদ্ধে হারবেন কিনা, তা থাকে না; প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় একটি জাতি হিসেবে আপনি টিকে থাকবেন কিনা। তখন আপনার হাতে থাকা শেষ অবলম্বনটি ব্যবহার করবেন।
ফিদান পরিস্থিতিটিকে “বিপজ্জনক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, বিষয়টি পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া সফরের সময় মনে হয়েছিল, বিষয়টি সামনে আসতে পারে। কারণ এমন কথাও বলা হচ্ছিল যে, জনগণ এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের দাবি করছে। আমরা পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেছি এবং তারাও এ সম্পর্কে অবগত।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি। মানুষ যে বিষয়গুলো কখনো ঘটবে না বলে মনে করে, শেষ পর্যন্ত সেগুলোই ঘটে।
দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই দূরপাল্লার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও বেড়েছে।
সোমবার মধ্য রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। প্রায় পাঁচ বছর সময় ধরে চলা যুদ্ধের শুরু থেকে ইউক্রেনের চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি।
অন্যদিকে, সোমবার ইউক্রেনেও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সম্মুখভাগের কাছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামে রুশ গোলাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৪৫৬টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। তবে এর মধ্যে কতগুলো ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়া ১২৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে।
