রাতের আঁধারে ফেনীর পরশুরামে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের চর কেটে মাটি লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একটি চক্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত রোববার রাতে পরশুরাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কাপ্তান বাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের চর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটিকাটা শুরু করে চক্রটি। পাহারাদারের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই মাটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল স্থানীয় খণ্ডল ব্রিকফিল্ডে। রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরশুরাম মডেল থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। ঘটনার পরদিন সকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন এবং পাউবো’র পরশুরাম উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিমাপ করেন। তদন্তে চর কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা মেলে। পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাঁধের চর থেকে মাটি কেটে ভারী যানবাহনে পরিবহন করার ফলে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধের নিরাপত্তায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খণ্ডল ব্রিকফিল্ডের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহিম ১০ থেকে ১২ গাড়ি মাটি তাদের ইটভাটায় আনার কথা স্বীকার করেন। তবে মাটি কার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে ভরা বর্ষা মৌসুম চলায় যেকোনো সময় কহুয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ অবস্থায় বাঁধের চরের মাটি কেটে নেয়ায় বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফেনী পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাঁধের সুরক্ষায় এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
