রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা বিশুদ্ধ পানি প্রকল্পে আয়রনযুক্ত পানি ও প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নিম্নআয়ের পরিবারে টিউবওয়েল সরবরাহ দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি থাকলেও ওই প্রকল্প দেয়া হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের প্রথম শ্রেণির পরিবারে। সরজমিন বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দেখা যায়, প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই সচ্ছল ও বিত্তবান পরিবারের বাড়িতে বসানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশুদ্ধ খাবার পানি সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন করা। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে উল্টো।
ফলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া স্থাপিত কয়েকটি নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় তা ব্যবহার উপযোগী নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, আমাদের এলাকায় অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে, তাদের নলকূপ বরাদ্দ দিলে উপকৃত হতো। অথচ সচ্ছল পরিবারে এসব নলকূপ দেয়া হয়েছে। বড় আলমপুর গ্রামের রতন মিয়ার ছাদ ঢালাই বাড়িতে পানির পাম্প ও টিউবওয়েল রয়েছে। এরপরেও তাকে উন্নয়ন সহায়তার সরকারি নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রতন মিয়ার অভিযোগ, ৮৫ ফিট পাইপ দিয়ে বসানো হয়েছে নলকূপ। পর্যাপ্ত আয়রনযুক্ত পানি, যে পানি গবাদিপশুও খেতে চায় না। বরাদ্দের অর্ধেক খরচও হয়নি।
এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম তার দেবর মাসুদ মিয়ার বাড়িতে গরুকে পানি খাওয়ানোর জন্য নলকূপ বসিয়েছেন। তার নলকূপেও প্রচুর আয়রনযুক্ত পানি। তিনি জানান, এই পানি ব্যবহার উপযোগী নয়। অত্র ইউনিয়নের ফতেপুর শিমলতলা এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আযাদুল ইসলাম জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে একটি টিউবওয়েল বসানো বাবদ ৫০০ টাকা নেয়া হয়েছে। বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ১৬টি নলকূপ স্থাপনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক।
প্রকল্পের অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই বরাদ্দগুলো দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের ঠিকাদারকে তাও আমি জানি না। সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ওই ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম জানান, নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে। ফলে এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
