কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার বেশির ভাগ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বয়স পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় স্থানীয় যুবসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জানা গেছে, নির্বাচন কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার অবসর গ্রহণ ও নতুন কর্মকর্তার দায়িত্বভার গ্রহণের শেষ সময়ে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। আগের কর্মকর্তা অবসর নেয়ার পর দাপ্তরিক নিয়মানুযায়ী নতুন কর্মকর্তা যথাসময়ে পদ বুঝে নিতে পারেননি।
ফলে উপজেলায় বেশির ভাগ তরুণ ভোটার হতে কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। দ্বীপের লেমশীখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাফর আলম ও মিরাজু আক্তার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তাদের বয়স ১৮ পেরিয়ে ১৯ চলছে। আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে দেখি কর্মকর্তা নেই। তাই ভোটারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারিনি। তাদের মতো কুতুবদিয়া উপজেলার বেশির ভাগ তরুণ প্রজন্মের ভোটার হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, দ্বীপাঞ্চলে সাধারণত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা প্রতিকূলতা থাকায় বদলি বা নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বেশি দেখা দেয়। ফলে এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ দ্বীপবাসীকে। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অনিক বড়ুয়া বলেন, পূর্ববর্তী কর্মস্থল থেকে বদলির জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বদলির আদেশ বাতিল ও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের টানাপড়েনের কারণে নির্ধারিত সময়ে তিনি যোগ দিতে পারেননি।
তবে তিনি দ্বীপবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, চলমান খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আনুষঙ্গিক কাজগুলো এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটার নিবন্ধন, ছবি তোলা এবং আবেদন সংক্রান্ত বন্ধ থাকা সেবাগুলো দ্রুতই পুনরায় চালু করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে প্রশাসনিক পদগুলোতে শূন্যতা তৈরি হওয়ার আগেই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। অন্যথায় প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
