গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান: আরিফুল হক চৌধুরী

সিডনিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান: আরিফুল হক চৌধুরী

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিডনিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই: স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার বিকেলে সিডনির লাকেম্বার বাংলা কমিউনিটি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা শুধু রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। দেশের মানুষ যেমন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন নয়। দেশের সুখে-দুঃখে প্রবাসীরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য পৃথক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এবং নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালে বিশেষ লাউঞ্জ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশে যাতায়াতের সময় হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বলেন, প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে ভূমিকা রাখবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ ধরনের অর্থবহ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিএনপি অস্ট্রেলিয়া ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শাহ জে. মিয়া একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ৩১ দফার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়া পরিবারের অবদান নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয়, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ জিয়া পরিবারের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান এবং কবি জসিম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম, বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি এফ এম তৌহিদুল ইসলাম, বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি সম্মান জানান। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আহ্বায়ক মোশিউর রহমান মুন্না ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম শফিকের সমন্বয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন