প্রথম আলো
‘ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ইতিবাচক পথে ফেরানোয় মনোযোগ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময়ের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে গত বুধবার হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়। এ উত্তেজনার পর্ব পেরিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে আনতে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গত জুন মাসে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গতকাল রোববার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। শুরুতে দুই পক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও পরে আধা ঘণ্টার বেশি সময় তাঁরা একান্তে কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গতকালের বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। গত শনিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের কথা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ঢাকায় ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে কাজ শুরু করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর ২৯ জুলাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। সম্পর্ক ইতিবাচক পথে ফেরাতে এটাই পথ। পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা আর স্বার্থ সমুন্নত রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি এক দেশকে অন্য দেশের সংবেদনশীলতার প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা জরুরি।
দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় জোর ত্রিবেদীর
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথাবার্তা বলি। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভেক) শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজকের সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তাঁর বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি।’
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, যখন দুই নেতার দেখা হয় অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথা বার্তা বলি। আমার তো পুরো বিশ্বাস যে মানুষ এক আছে। সমাধান (সলিউশন) হবে। এখানটায় কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই। সব ইতিবাচক।’
ভিসা কেন্দ্রে শিশুকেন্দ্রের উদ্বোধন
ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে একটি শিশুকেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় হাইকমিশন তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, একজন মায়ের সাধারণ একটি অনুরোধ কখনো কখনো তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে পারে। ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে তাঁর প্রথম পরিদর্শনের সময় (২৫ জুন) ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে একজন মা একটি নিরাপদ খেলার জায়গার জন্য অনুরোধ জানান, যেখানে বাবা-মায়েরা ভিসার জন্য আবেদন করার সময় শিশুরা অবস্থান করতে পারবে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই তাঁর অনুরোধটি বাস্তবে রূপ নিল। গতকাল ওই মা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কল্পনার সেই খেলার জায়গার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, এই চাহিদা পূরণে ভিসা আবেদন কেন্দ্র বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের খরচ কমানো এবং ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব রিজভী’। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। আর তিনি রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এমন আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম। প্রভাবশালী মন্ত্রীদের তালিকায় বর্তমানে রিজভী আহমেদ নেই। মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে বিএনপির সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে রিজভী আহমেদের। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব হিসাবে দলের অনেক সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘ সময় যুক্ত আছেন রিজভী।
সূত্র জানায়, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসাবে বিএনপির সিনিয়র চার নেতার নাম থাকলেও মির্জা ফখরুলকে কেন্দ্র করেই আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। কয়েকদিনে আলোচনায় দলের ভেতরে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যে, ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। মহাসচিবের পদ নিয়ে আলোচনা এ কারণেই। কারণ, রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হলে ফখরুল মহাসচিবসহ দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, দলের পরবর্তী মহাসচিব রিজভী আহমেদ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে। এছাড়া রুহুল কবির রিজভী দলের জন্য ‘ফুলটাইম’ নিবেদিত বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। এছাড়া পদাধিকারবলেও তিনিই এই পদের দাবিদার। ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে ২০১১ সালে দলটির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সাধারণত সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবকে পরবর্তী মহাসচিব মনে করা হয়। তবে প্রথমে মির্জা ফখরুলের মতো তাকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হবে।
এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ‘মহাসচিব নিয়ে কী হচ্ছে আমার জানা নেই। তবে আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশেই দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দল আমাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।’
যদিও সরকার গঠনের আগের আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সরকারে তারা এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে তুলনায় রিজভীর ব্যস্ততা কিছুটা কম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক যোগাযোগে তার অবদান রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসাবে রিজভীর নামই সামনে আসছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রার্থীও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের স্থায়ী কমিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে। তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবর একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান রোববার মির্জা ফখরুলের বরাত দিয়ে জানান, মহাসচিব এ বিষয়ে কিছু জানেন না। দলের পক্ষ থেকেও বিএনপি মহাসচিবকে কিছু জানানো হয়নি।
বিএনপিতে আলোচনা আছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। দলের মহাসচিবের দায়িত্ব তখন শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, সরকারের সঙ্গে দলীয় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসাবে তিনি সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রিজভী বামপন্থি সংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন’-এর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করে পরবর্তীকালে রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সম্পাদক হন। এরপর ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হলে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রিজভী। ১৯৮৪ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি পঙ্গুত্ববরণ করেন। সেসময় ৭ বার কারাবরণ করেন তিনি। রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের প্রথমার্ধে ছাত্রদলের রাজনীতির উত্তাল ও সংকটময় সময়ে যেসব নাম রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রিজভী আহমেদ।
কালের কণ্ঠ
‘সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কম্পানির আগ্রহ বাড়ছে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ডাকা আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশি বহুজাতিক কম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত সাতটি আন্তর্জাতিক কম্পানি পেট্রোবাংলার কাছ থেকে তথ্য প্যাকেজ কিনেছে।
পাশাপাশি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কম্পানি (টিপিএও) দরপত্রের নথি কিনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক কম্পানি পেট্রোবাংলার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবার উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) সংশোধন করে আগের তুলনায় আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক বিদেশি কম্পানি দরপত্রে অংশ নেবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা।
গত ২৪ মে পেট্রোবাংলা ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এতে গভীর ও অগভীর সমুদ্র মিলিয়ে মোট ২৬টি ব্লক তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি এবং অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে সাতটি বহুজাতিক কম্পানি পেট্রোবাংলার কাছ থেকে তথ্য প্যাকেজ কিনেছে।
পাশাপাশি একটি কম্পানি দরপত্রের ডকুমেন্টও কিনেছে। আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক কম্পানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরো কম্পানি দরপত্রে অংশ নেবে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘বড় আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কম্পানিগুলোর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আইওসি এক্সনমবিল ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এক্সনমবিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকও হয়েছে। আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোর কাছে দরপত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে।’
পিএসসির পরিচালক বলেন, ‘এবার আইওসির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছি, এর পেছনে বড় কারণ হচ্ছে ২০২৪ সালের বিডিং রাউন্ডের অভিজ্ঞতা। ২০২৪ সালে সাতটি বিদেশি কম্পানি দরপত্র দলিল কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। ওই সময় আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলো যেসব পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও উদ্বেগ লিখিতভাবে জানিয়েছিল, সেগুলো এবার বিবেচনায় নিয়ে নতুন পিএসসি প্রণয়ন এবং দরপত্রের বিভিন্ন শর্ত সংশোধন করা হয়েছে।’
প্রকৌশলী মো. শোয়েব আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেসব আইওসির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, তাদের কাছ থেকে নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বরং বেশ কয়েকটি কম্পানি বাংলাদেশের অফশোর এলাকায় অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য এখনো কয়েক মাস সময় থাকায় এই সময়ে আরো কম্পানি এতে যুক্ত হবে বলে আমরা আশা করছি।’
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, অফশোর বিডিং রাউন্ডে গভীর ও অগভীর সমুদ্রের মোট ২৬টি ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গ্যাসের দাম নির্ধারণের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পিএসসি-২০২৬ অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের ১১ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে সাড়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের পিএসসিতে উভয় ক্ষেত্রেই এই হার ছিল ১০ শতাংশ। এ ছাড়া সমুদ্র থেকে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নির্মাণের দায়িত্ব ঠিকাদারি কম্পানিকে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাসের মজুদ, সরবরাহ ও খরচ বিবেচনায় ঠিকাদারি কম্পানিকে ট্যারিফ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর ও শুল্ক অব্যাহতি, পেট্রোবাংলার মাধ্যমে ঠিকাদারের আয়কর পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট শর্তে গ্যাস তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘শিক্ষক বরখাস্ত, তদন্ত ও তালিকা ঘিরে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা’। খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই এবং রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত এক বছরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী নির্যাতন, হামলা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শিক্ষক দলাদলি সবচেয়ে প্রকট ঢাকা রিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে কয়েকজন শিক্ষককে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামীপন্থি প্রায় ৩০০ শিক্ষকের একটি তালিকা উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
সাব্বির নেওয়াজ
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই এবং রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত এক বছরে জুলাই অভ্যুত্থানের
দেশের ২২ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে গত কয়েক দিনে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আলোচনার শীর্ষে মির্জা ফখরুল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন সংসদ সদস্যদের ভোটে, তাই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এটা নিশ্চিত। আর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে বেছে নেন কিংবা কার ওপর আস্থা রাখেন—সবার দৃষ্টি এখন সে দিকে। কারণ, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তার ওপর দিয়ে রেখেছে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম জানা যাবে আগামী বৃহস্পতিবার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ঐদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।
ইসি থেকে দুটি মনোনয়নপত্র নিয়েছে বিএনপি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গতকাল রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গতকাল একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আরেকটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে, তারা কার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে এবং তা বাতিল হলে অন্যটি যেন বিবেচনায় নেওয়া যায় সেজন্যই দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা। সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করেছিল তত্কালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় ঐক্য মনোনয়ন দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্রসংস্কারে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্বতন সরকারগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে হবে। কিন্তু, বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া যেত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এজন্য ১১দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে তখন ব্যক্তির চেয়ে প্রক্রিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতো। বিএনপি এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন না করে রাষ্ট্রপতি পদটিকে দলীয় ব্যাপার হিসেবে নিয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘টিটিপি সংযোগে দুই ফ্রন্টে তদন্ত, ঝুঁকিতে কক্সবাজার’। খবরে বলা হয়, দেশের সীমান্ত এলাকায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সাথে বাংলাদেশী নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। পাকিস্তান থেকে প্রায় ২০ মাস হেফাজতে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরত পাঠানো শেখ আজিজুল হাক্কানিকে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন সূত্র মিলেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সময়ে কক্সবাজারের টেকনাফে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও টিটিপি-সংশ্লিষ্ট এক রোহিঙ্গা হাজতিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। দু’টি ঘটনা একসাথে বিশ্লেষণ করলে সীমান্তবর্তী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিটিপি বাংলাদেশে তাদের নেটওয়ার্কের জাল বুনেছে। তাদের উদ্দেশ্য সীমান্তবর্তী এলাকাসহ দেশের সব জেলায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা তাদের পরিকল্পনায় অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ফলে দেশে বড় ধরনের হামলা বা নাশকতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক বছরে কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মি, আরসা, কেএনএফসহ একাধিক সশস্ত্র ও উগ্রপন্থী সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। এর মধ্যে টিটিপির মতো আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত সংগঠনের সাথে বাংলাদেশী নাগরিকদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং প্রবাসীদের মধ্যে অনলাইন র্যাডিকালাইজেশন (উগ্রপন্থা ছড়িয়ে দেয়া) প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে।
করাচি থেকে গ্রেফতার, দেশে জিজ্ঞাসাবাদ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, শেখ আজিজুল হাক্কানি ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন। প্রায় ২০ মাস পাকিস্তানে হেফাজতে থাকার পর গত ২ আগস্ট তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরার পরপরই তাকে বিমানবন্দর পুলিশ, টাস্কফোর্স ইন্টেরোগেশন সেল (টিএফআই) এবং পরবর্তীতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২০ সালে সৌদি আরবে কর্মরত থাকাকালে অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে হাক্কানি ক্রমে উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ‘নাসের’ নামে এক আফগান নাগরিক এবং বাংলাদেশী সহযোগী আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দারের মাধ্যমে তিনি টিটিপি নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত হন।
তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি আফগানিস্তানে তালেবান নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ এবং পেশোয়ারের জামিয়া হাক্কানিয়া মাদরাসায় প্রশিক্ষণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আগে চিহ্নিত নিহত ফয়সাল হোসেন, রতন ঢালি ও আহমেদ জোবায়েরসহ অন্য টিটিপি সদস্যদের সাথে হাক্কানির কোনো সংযোগ ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার ও শামিন মাহফুজের কথিত কর্মকাণ্ড ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বণিক বার্তা
‘ঢাকার অচলাবস্থা কাটাতে ভাঙতে হবে ধানমন্ডি সেগুনবাগিচা ধোলাইখাল বক্স কালভার্ট’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বৃষ্টিস্নাত কিংবা রোদে ঝলমল—কোনো দিনেই স্বস্তি নেই ঢাকাবাসীর। সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যায় নগর। আর ঝলমলে রোদে ঢাকা হয়ে ওঠে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’।
জলাবদ্ধতা কিংবা গরমের কষ্ট ছাড়াও ট্রাফিক জ্যাম, বছরজুড়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, পানি-গ্যাস সংকট এবং অপ্রতুল গণপরিবহনের মতো সমস্যাগুলো রাজধানীকে প্রায় অচল করে রাখছে। সচল নগরী গড়তে রাজধানীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ ২০২২-৩৫) সুপারিশ করা হয়েছে প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের। এতে বলা হয়েছে, বক্স কালভার্টে ঢেকে ফেলা ঢাকার খালগুলো উন্মুক্ত করে নৌপথ পুনরুদ্ধার করতে পারলে ঢাকার অনেক ভোগান্তিই স্বস্তিতে পরিণত হবে।
১৯৮৮ সালের বন্যায় সারা দেশের সঙ্গে ডুবে গিয়েছিল রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকা। এরপর ঢাকাকে বন্যা ও জলাবদ্ধতামুক্ত করার লক্ষ্যে তৈরি হয় বিভিন্ন পরিকল্পনা। নব্বই দশকে নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর বড় বড় খালের ওপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ শুরু করে সরকারি সংস্থা ঢাকা ওয়াসা ও তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন (বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন)। বক্স কালভার্ট নির্মাণের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, খাল শুধু পানিপ্রবাহের জন্য। পানি প্রবাহিত হলেই খালের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যায়। এ যুক্তি দিয়ে ঢাকার বড় বড় খাল ঢেকে ফেলা হয়। তিন দশকের মাথায় বক্স কালভার্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ হয়েছে সরকারি পর্যবেক্ষণেই। সর্বশেষ প্রণীত ড্যাপে বলা হয়েছে, ঢাকার হারিয়ে যাওয়া খাল, প্রাকৃতিক জলাধার ও নৌপথ পুনরুদ্ধার ছাড়া ঢাকাকে সচল করার দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।
ঢাকার পরিস্থিতি উন্নয়নে নৌপথ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার চারপাশে চারটি বড় নদী রয়েছে। শহরের ভেতর অর্ধশতাধিক খাল রয়েছে। বেশ কয়েকটি বড় খালের ওপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ করায় নগরীতে অনেকগুলো সমস্যা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, নষ্ট হয়েছে প্রকৃতির ভারসাম্য। আমাদের নীতিনির্ধারকরা অনেক দেরিতে বুঝতে পেরেছেন যে খাল শুধু পানিপ্রবাহ নয়, বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরাতে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী বক্স কালভার্ট সরিয়ে খালগুলো পুনরুদ্ধার করা জরুরি।’
ধানমন্ডি খাল বক্স কালভার্টে রূপান্তরের মাধ্যমে ১৯৯০ সালে শুরু হয় ঢাকার খালগুলোকে ঢেকে দেয়ার প্রক্রিয়া। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ধানমন্ডি লেক থেকে শুরু হয়ে খালটি মিশেছে বেগুনবাড়ি খালে অর্থাৎ বর্তমান হাতিরঝিলে। এটি প্রবাহিত হয়েছে কাঁঠালবাগান, রাজাবাজার ও পরীবাগ খালের (বর্তমান শাহবাগ) মধ্য দিয়ে। ১৯৯০-এর দশকে এই পুরো খালের ওপর বক্স কালভার্ট তৈরি করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। যা বর্তমানে ‘পান্থপথ’ বক্স কালভার্ট হিসেবে পরিচিত।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের বুক চিরে বয়ে চলা সাড়ে তিন কিলোমিটার চেওংগাইচেওন খালটি কাটা হয়েছিল চতুর্দশ শতকে। উদ্দেশ্য ছিল নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা রোধ করা। পাঁচশ বছর পর বিশ শতকের ত্রিশের এ খাল ঘিরে গড়ে উঠে বৃহৎ বস্তি। নগরীতে বাড়তে থাকা মানুষের কর্মকাণ্ডে দূষিত হয় চেওংগাইচেওন খাল। প্রতিদিন ১ লাখ ৬৮ হাজার গাড়ির চাপ সামলাতে সিউল নগর কর্তৃপক্ষ ১৯৬০ সালে খালটি কংক্রিটে ঢেকে ফেলে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তার ওপর নির্মাণ করা হয় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
মাত্র দুই দশকের মাথায় সেই কংক্রিটের মহাসড়কই সিউলের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। হাইওয়ের কারণে চারপাশের এলাকার তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। অবশেষে ২০০৩ সালে সিউলের তৎকালীন মেয়র লি মিয়ং-বাকের নেতৃত্বে প্রায় ২৮১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সেই ব্যস্ততম উড়ালসড়কটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়। দুই বছরের মধ্যে হাইওয়ে সরিয়ে আবার উন্মুক্ত করা হয় ঐতিহাসিক চেওংগাইচেওন খালকে। গড়ে তোলা হয় সবুজ ওয়াটারফ্রন্ট পার্ক। এর সঙ্গে পরিকল্পিত গণপরিবহন ও সাবওয়ে চালুর কারণে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি কমে যায়। খালটি উন্মুক্ত করার পর সিউলের কেন্দ্রস্থলের তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৩ দশমিক ৬ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায়। সিউলের বুকে ফিরে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, মাছ ও উদ্ভিদ।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক: ঝরে পড়ার হার বাড়ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনা মূল্যে পাঠ্যবই, উপবৃত্তিসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমছে না। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক—শিক্ষার সব স্তরে প্রতিবছর বিপুল শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে প্রতি তিনজনে একজন ঝরে যাচ্ছে। এ দুই স্তরে কারিগরি ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার আরও বেশি। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ঝরে পড়ছে বেশি। প্রাথমিক স্তরেও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ছাড়ার হার বেড়েছে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪ এবং বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, পরিবারের আর্থিক সংকট, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যা, শিক্ষার মান ও শেখার আগ্রহ কমে যাওয়া, অভিভাবকদের অনাগ্রহ এবং মূল্যস্ফীতির কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকার উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতা বাড়ানো, পর্যায়ক্রমে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা-মোজা দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো, বড় পরিসরে স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষায় খরচ কমানোর তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদেরা।
শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান স্তরে। এই স্তরে প্রতি তিনজনে একজনের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এর হার ৩৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছিল ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪০ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেছিল ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৯ জন। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমান পাস করেও বাকি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৫১ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়নি। অর্থাৎ একাদশে ভর্তির আগেই ঝরে পড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।
এর পরের ধাপে, অর্থাৎ একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৪ জন। যা নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ।
অর্থাৎ এসএসসি পাসের পর এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণের আগে ঝরে পড়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। কারিগরি বোর্ডের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৩ জন। তবে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন। অর্থাৎ ৬৩ হাজার ৫২৫ জন বা ৩৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে ঝরে পড়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে আলিমে (এইচএসসি সমমান) নিবন্ধন করা ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৫৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফরম পূরণ করে ৭৯ হাজার ৯ জন। অর্থাৎ ভর্তি হয়েও চলমান আলিম পরীক্ষা দিচ্ছে না ৪৯ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী। এখানে ঝরে পড়ার হার ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
দেশ রূপান্তর
‘রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী বুধবার দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। গতকাল রবিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যসহ দলের কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। ১৯৯১ সালের পর দেশে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোবারই ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একজন প্রার্থী থাকায় তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবেন রাষ্ট্রপতি। ১৯৯১ সালে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। সেই নির্বাচনে সরকারি দল বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান সংসদে জামায়াত জোটের সদস্য (এমপি) ৯০ জন। ৩৪৯ আসনের সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ স্বতন্ত্র এমপি ৮ জন। ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণ অধিকার পরিষদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে এমপি রয়েছেন। বাকি ২৪৭ জন এমপি বিএনপির। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। ফলে বিএনপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। অর্থাৎ নিশ্চিত পরাজয় জেনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ পদে প্রার্থী দিল।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য এটা (রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া) দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি। আমরা মনে করি যে সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে।’
