সিলেট বিআরটিসি’র কাউন্টারে এত মধু

সিলেট বিআরটিসি’র কাউন্টারে এত মধু

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে বিআরটিসি’র প্রধান কাউন্টার দুই বছর ধরে দখলে রেখেছেন জামায়াত নেতা সোহেল রানা। তার বাড়ি বরইকান্দিতে। গত মাসে সিলেট বিআরটিসি’র ডিপো ম্যানেজার ঢাকার কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন করে ইজারা দিলেও সোহেল রানা তার কাউন্টার থেকে সাইনবোর্ড সরিয়ে নিচ্ছেন না। সর্বশেষ সিলেট বিআরটিসি’র ডিপো ম্যানেজারের অনুরোধে পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করলেও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত বিআরটিসি’র প্রধান কাউন্টার। সিলেট কদমতলীস্থ প্রধান কাউন্টার থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সোনাপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের সবক’টি রুটে টিকিট বিক্রি ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই কাউন্টার থেকে অনেকটা জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়েছিল বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে। এরপর আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে কাউন্টারের ইজারা নেন কিশোরগঞ্জের আলিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে নগরের কদমতলী ও আশপাশ এলাকার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সম্পৃক্ততা ছিল। ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর এই কাউন্টার সমঝোতার ভিত্তিতে দখলে নেন বরইকান্দি এলাকার জামায়াত নেতা সোহেল রানা। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সিলেট থেকে নিজ এলাকায় চলে যান আলিম উদ্দিন। তার শেল্টারদাতা দক্ষিণ সুরমার আওয়ামী লীগ নেতারাও ওই সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। প্রথমে সোহেল রানা দেখভালের দায়িত্ব নিলেও পরবর্তীতে তিনি আলিম উদ্দিনের সঙ্গে চুক্তি করে কাউন্টারের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে কাউন্টারের মূল ইজারাদার হিসেবে সরকারের খাতায় আলিম উদ্দিনের নাম থাকলেও সোহেল রানাই মূলত ওই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

আগের ইজারাদার আলিম উদ্দিন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তিনি এক লাখ টাকা জামানত দিয়ে সিলেটের প্রধান কাউন্টারের এজেন্ট হন। তার নেতৃত্বেই সিলেটে বিআরটিসি’র প্রধান কাউন্টার চলে। ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে তিনি অসুস্থতার জন্য বাড়ি চলে গেলে সোহেল রানার সঙ্গে চুক্তি হয়। তিনি ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত তাকে নামমাত্র টাকা দিলেও পরবর্তীতে আর কোনো যোগাযোগ করেননি কিংবা টাকাও দেননি। আলিম উদ্দিন জানিয়েছেন- মে মাসের পর থেকে কতো টাকা আয় কিংবা ব্যয় হয়েছে সে সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে বর্তমানে সিলেটের প্রধান কাউন্টারের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রায় দুই বছর এভাবে চলার পর বিআরটিসি’র নতুন পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে প্রধান কাউন্টার ইজারার কার্যক্রম শুরু করেন। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিআরটিসি’র সিলেট ডিপোর ম্যানেজার মো. রোকনুজ্জামান ঢাকার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে গত ১৪ই জুলাই সিলেট কাউন্টার নতুন করে ইজারা প্রদান করেন।

কাউন্টার নতুন করে ইজারা হওয়ার পর কার্যত পূর্বের ইজারাদারের কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে। নতুন ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মান্নান মার্কেটে নতুন করে কাউন্টার খুলেন। সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামালসহ বিএনপি নেতা এ কাউন্টারের উদ্বোধন করেন। কিন্তু কাউন্টার খুললেও অনেকটা জোরপূর্বক দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী বিআরটিসি’র বাস সোহেল রানাই পরিচালনা করছিলেন। এই অবস্থায় সিলেট বিআরটিসি’র ম্যানেজার মো. রোকনুজ্জামান পূর্বের ইজারাদারের কাউন্টারে কার্যক্রম পরিচালনা না করতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে- দ্রুতই পূর্বের কাউন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর যদি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে বর্তমান ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট কাউন্টার থেকে সব রুটে বিআরটিসি’র বাসের সার্ভিস পরিচালনার কথা।

কিন্তু এখনো কুমিল্লার দুটি রুটে এ কাউন্টার থেকে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ দুটি সড়কের বাস সার্ভিস জোরপূর্বক পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে জোরপূর্বক বাস পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন জামায়াত নেতা সোহেল রানা। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তিনি কখনোই অবৈধ ছিলেন না। বরং ইজারাদারের সঙ্গে চুক্তি করে ব্যবসা করছিলেন। বর্তমানে কুমিল্লা রুটের দুটি বাস সার্ভিস নতুন ইজারাদারের ওখানে যাচ্ছে না। এজন্য কুমিল্লা ইজারাদারের হয়েই তিনি এখানে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়টির সুরাহা হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। সিলেট বিআরটিসি’র ডিপো ম্যানেজার মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন- প্রধান কাউন্টারের ইজারাদারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। যে ইজারা নেবেন তিনি পরিচালনা করবেন। ফলে এতদিনের পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন- বিষয়টির আইনির উদ্যোগ নিতে পুলিশকে অবগত করেছি। এখন বিষয়টি পুলিশ দেখবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন