পাবনার আটঘরিয়ায় মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে দুই পক্ষ। দু’পক্ষই করেছে মানববন্ধন। মানববন্ধন ঘিরে উত্তেজনার একপর্যায়ে প্রকাশ্যে পিস্তল বের করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে ফাঁকা গুলি এবং পরে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে টিপু বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে একজন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও প্রভাষক আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে এবং তাদের অপসারণের দাবিতে গত ৩রা আগস্ট মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে স্থানীয় একটি পক্ষ। অন্যদিকে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে রোববার পাল্টা মানববন্ধনের আয়োজন করে তাদের পক্ষের লোকজন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার সামনে ব্যানার নিয়ে তারা দাঁড়ালে টিপু বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে মানববন্ধনে বাধা দেয় এবং ব্যানার কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উপস্থিত লোকজন টিপু বিশ্বাসকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে তাকে বাধা দিতে গেলে ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে পেটে গুলি করেন তিনি। গুলিবিদ্ধ ইকরাম মাটিতে পড়ে গেলে টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে। অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস একই উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসী গ্রামের আহেদ বিশ্বাসের ছেলে। এ দিকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
