টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামানকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বরিশাল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। রোববার বরিশাল সদর থানায় দায়ের করা জিডিতে অভিযুক্তরা হলেন- নলছিটি টিঅ্যান্ডটি সড়কের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা (দাবিদার) মো. খন্দকার সালেহ আহমেদ পারভেজ, নান্দিকাঠী এলাকার সাবেক কাউন্সিলর ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র সদস্য এনায়েত করিম মিসু এবং নলছিটি পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার।
জিডিতে মো. মিজানুজ্জামান অভিযোগ করেন- টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গত বছরের ৯ই আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের বিআরটিসি কাউন্টারের পাশে অবস্থানকালে খন্দকার সালেহ আহমেদ পারভেজ তার মোবাইল ফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপি’র সদস্য মো. এনায়েত করিম মিশুও তাকে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পৌর সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান অভিযোগে বলেন, এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এ ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান। এ বিষয়ে সালেহ পারভেজ বলেন, ‘মিশু ভাই ফোন ধরে না, ফোন ধরে আবার কেটে দিছে, এ কারণে আমি ফোন দিছি। ফোনে কথাকাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “জিডি যেহেতু করা হয়েছে, সেহেতু কোনো না কোনো ঘটনা ঘটেছে। ফোনে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে, তবে বিষয়টি জিডি করার মতো গুরুতর কিছু নয়।” এ বিষয়ে এনায়েত করিম মিশুর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, আমার কাছে ২৫ হাজার টাকা চাইছে, আর না হলে ১৫ হাজার দিতে বলেছে! একটা টেন্ডার নিয়ে আজকে চার মাস যাবৎ কথা হচ্ছে। এরপর তাকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন না।
যে কারণে আমি তাকে বলছি, আপনার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ঝাড়ু মিছিল করবে। তিনি আরও বলেন, “যা বলছি সত্যি বলেছি, ওরে আবার প্রাণের হুমকি দেবো কি?” তবে শুরুতে ২৫-১৫ হাজার টাকা বললেও শেষে আবার সেটি ২৫ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, আমাকে ফোনে অশ্লীল গালিগালাজ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। মিশু ও পারভেজ ফোন করে বলেন, ‘তোরে জুতা দিয়ে পিটামু, তোরে দেখাইয়া দিমু, জিরো পয়েন্টে আসলে তোর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলবো।’ এ ছাড়াও সরোয়ার তালুকদার আমার অফিসকক্ষে গিয়ে বলেন, ‘তোরে মারতে আসছি’। তবে টাকা দাবির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
