প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভয়ঙ্কর প্রতারণা

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভয়ঙ্কর প্রতারণা

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আমিরুল ইসলাম নামে এক ভণ্ড প্রেমিকের সন্ধান মিলেছে। সে প্রেমের অভিনয়ে বিয়ে করে তার প্রতারণার কৌশলে ওই পরিবারকে নিঃস্ব করে ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে প্রেম করে একাধিক বিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে আস্থা অর্জনসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার কৌশলে নিজেকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতেন সোহাগ। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন এই প্রতারক। তার পরিকল্পিত কৌশল ও অভিনয়ের কারণে অনেক ভুক্তভোগী সহজেই তার পাতানো ফাঁদে পা দিতেন। এসব অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আমিরুল ইসলাম সোহাগ উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের গাড়াজান গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোহাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন। এ ছাড়া, তার বাবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী সাদিয়া নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ইংরেজি শেখার সময় সোহাগের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, সোহাগ এর আগেও দু’টি বিয়ে করেছিলেন; যা বিয়ের আগে গোপন রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার ছোট ভাই রিদওয়ান রিদুকে হাঙ্গেরিতে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা প্রস্তুতের কথা বলে সোহাগ নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় এক ভরির বেশি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অর্থ ও পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করে বিত্তশালী নারীদের টার্গেট করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হতো। তার দাবি, গোপনে বিয়ের পর তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে সোহাগের মা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী দুদু মিয়া বলেন, সোহাগ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার কারণে এলাকায় আলোচিত ছিলেন। ঈদের পর সোহাগ একটি স্বর্ণের চেইন এনে তার মাকে দেন। পরে সোহাগের মা পাশের বাড়ির প্রতিবেশী স্ত্রীকে জানান, তার ছেলে এক লাখ টাকা দিয়ে চেইনটি কিনেছেন। তবে পরবর্তীতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় প্রতারণার অভিযোগে সোহাগকে সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা আটক করলে, তাকে ছাড়িয়ে আনতে তার পরিবার ওই স্বর্ণের চেইন ও গরু বিক্রি করে টাকা পাঠায় বলে দাবি করেন দুদু মিয়া।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, টাঙ্গাইলের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তার ছোট ভাইকে বিদেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৩ লাখ টাকা নেয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে খুঁজতে এলাকায় এসেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি অনুযায়ী, আমিরুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ ছাড়া, ফুলবাড়ীয়া থানায় আরও একটি মামলাসহ ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-০২ এর সিআর নং-৩০৯/২৪ মামলাতেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য নথিতে রয়েছে। একইসঙ্গে রংপুরে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার আলোকিত সকালের ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রতিনিধি আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা সিআইডিতে অভিযোগ করেন। ওই মামলার তদন্ত চলছে। হয়রানির শিকার সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম বলেন, সোহাগ বিশ্বমানের প্রতারক। তার প্রেমের ফাঁদে একটি বিষয় দেখে ফেলি ও জানতে পারি। যে কারণে আমার নামে ঢাকা সিআইডিতে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সিআইডিতে মিথ্যা অভিযোগ করে। আমি ওই মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই চাই ও প্রতারক সোহাগের কঠোর বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম সোহাগের নম্বরে একাধিবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সিআইডি সদর দপ্তরের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবু হাসান মণ্ডল বলেন, আদালত থেকে মামলাটি আমাকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আমি নোটিশ দিয়েছি। পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে বলেও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন