৪ শতাধিক স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক। আর শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস স্টাফ পদে লোকবল নেই বললেই চলে। এতে সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাথমিক শিক্ষা। প্রায় ১০ বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ খালি আশুগঞ্জ উপজেলায়। তবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অর্ধেকও নেই। ৫৫ জনের মধ্যে আছেন মাত্র ১৯ জন। ৩৬ পদ শূন্য। সদর উপজেলায় ১০ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্থলে আছেন ৫ জন, নবীনগরে ১১ জনের জায়গায় ১ জন, কসবা উপজেলায় ৮ জনের মধ্যে ২ জন, সরাইলে ৭ জনের মধ্যে ৩ জন, বাঞ্ছারামপুরে ৭ জনের মধ্যে ২ জন, আখাউড়া ২ জনের মধ্যে ১ জন, নাসিরনগরে ৬ জনের মধ্যে ২ জন এবং বিজয়নগরে ২ জনের মধ্যে ১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন।
তবে আশুগঞ্জ উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ পরিপূর্ণ রয়েছে। ২ জনের মধ্যে ২ জনই আছেন। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদশূন্যতায় ১১শ’ স্কুল তদারকি, শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক কাজ সেভাবে হচ্ছে না। জেলায় প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ১১০৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৯৬ জন। ৪০৯ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৬৫৭৭টির বিপরীতে ৬০৮০ পদে শিক্ষক রয়েছেন। ৪৯৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সদর উপজেলায় ১২৯ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৭৫ বিদ্যালয়ে, সহকারী শিক্ষক ৮৩২ জনের মধ্যে কর্মরত ৮১২ জন। নবীনগরে ২১৯ বিদ্যালয়ের ১২৯টিতে প্রধান শিক্ষক রয়েছে। ৯০ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক। এ উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ১০০টি।
সহকারী শিক্ষক ১৩০৮ জনের মধ্যে ১২০৮ জন রয়েছেন। কসবা উপজেলায় ১৬৩ বিদ্যালয়ের ১১৪টিতে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন এবং সহকারী শিক্ষক ৯৭৩ জনের মধ্যে রয়েছেন ৮৬৬ জন। সরাইলে ১২৬ জনের মধ্যে ৭৫ জন প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক নেই ৫১ বিদ্যালয়ে। সহকারী শিক্ষক ৭৪৮ জনের মধ্যে ৬৮৫ জন রয়েছেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩৯ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০০টিতে প্রধান শিক্ষক রয়েছে। সহকারী শিক্ষক ৮৪৫ জনের মধ্যে আছেন ৭৭৬ জন। আখাউড়া উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ৫৪ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩৪ জন, সহকারী শিক্ষক ৩৪১ জনের মধ্যে ৩২২ জন, নাসিরনগর উপজেলায় ১২৬ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে ৯০ জন কর্মরত, সহকারী শিক্ষক ৭১৭ জনের মধ্যে ৬৭৩ জন, আশুগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ৪৯ জনের মধ্যে কর্মরত ২৭ জন, সহকারী শিক্ষক ২৬৯ জনের মধ্যে ২৪৩ জন। বিজয়নগরে ১শ’ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত ৫২ জন। সহকারী শিক্ষক ৫৪৪ জনের মধ্যে কর্মরত ৪৯৫ জন। ওদিকে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোতেও লোকবলের প্রকট সংকট। উচ্চমান সহকারী ৯ জনের মধ্যে আছেন ২ জন। বাঞ্ছারামপুর এবং নাসিরনগর ছাড়া বাকি ৭ উপজেলায় এ পদে কোনো লোক নেই। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের ১৭টি পদের মধ্যে ১টিতে মাত্র লোক রয়েছে।
সদর ও নবীনগর উপজেলায় ৩ জন করে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক থাকার কথা। কিন্তু সেখানে একজনও নেই। কসবা উপজেলায় ২ জনের মধ্যে ১ জন, সরাইল, বাঞ্ছারামপুর ও নাসিরনগর উপজেলায় ২ জন করে থাকার কথা থাকলেও ১ জনও নেই। আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে এ পদে ১ জন করে থাকার কথা। কিন্তু কেউ নেই। হিসাব সহকারী ৯ উপজেলায় ৯ জনের মধ্যে কর্মরত ৬ জন। কসবা, নাসিরনগর ও আশুগঞ্জ উপজেলায় এ পদে কোনো লোক নেই। অফিস সহায়ক ৯ জনের মধ্যে আছে ১ জন। ৮ উপজেলাতেই এ পদ শূন্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান জানান- শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় মনিটরিং দুর্বলতা তো আছেই। আর এসব পদ এক-দেড় বছর নয়, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। প্রায় ১০ বছর হবে।
