দিনব্যাপী চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে ফটিকছড়িতে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছালে হেফাজত আমীর তাকে উষ্ণ অভিবাদন জানান।
রোববার বিকালে হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়ির পেহেলগাজী দিঘীর মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতি মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, গিয়াস কাদের চৌধুরী ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা দাবি করা হয়। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমানের সই করা লিখিত দাবিতে প্রথমেই মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাসের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজত। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের ডিগ্রি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধের দাবিও রয়েছে তাদের। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এ দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত। একইসাথে টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা বন্ধের দাবি করা হয়। এছাড়াও আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি করা হয়। সেগুলো হলো উত্তর চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নিত করা ও ফটিকছড়িতে একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ।
এদিকে হেফাজত আমীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী পার্শবর্তী হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় যান। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জোনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন। এর আগে দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরআগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
