নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকার অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ সময় কার্যালয়ের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ থাকায় জরুরি সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের। পাশাপাশি অযত্ন-অবহেলায় কার্যালয়টি পরিণত হয়েছে অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন, সেচ ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা সংস্কারসহ বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে আবেদন নিয়ে কার্যালয়ে গেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা পাওয়া যায় না। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কার্যালয়ে কোনো মোবাইল নম্বরও দৃশ্যমান নেই।
সরজমিন দেখা যায়, কার্যালয়ের মূল ফটকের পাশে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলছে। চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে ধুলা-ময়লা জমেছে। ভবনের আশপাশের বিশাল জায়গা জুড়ে আগাছা ও জঙ্গলে ভরে গেছে। কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার জানালা-দরজাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবীব বলেন, নদীভাঙনে তাদের গ্রামের একটি ঈদগাহ মাঠ হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি জানাতে এবং ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কয়েকদিন ধরে পাউবো কার্যালয়ে আসছেন। কিন্তু তিনদিনেও কোনো কর্মকর্তার দেখা পাননি। উপজেলার কেশবা গ্রামের বাসিন্দা সুজন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়টি অযত্নে পড়ে থাকায় আগাছা ও ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাঝে মাঝে সেখানে গরু জবাই করায় দুর্গন্ধ ছড়ায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কার্যালয়সংলগ্ন এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত দেখা যায় না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। জানা গেছে, একসময় কিশোরগঞ্জের এ উপ-বিভাগীয় কার্যালয়ে এসডিও, এসও, অফিস সহকারী, কার্যসহকারী, এমএলএসএস, নাইট গার্ড, দারোয়ান ও সার্ভেয়ারসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে কার্যালয়ের কার্যক্রম অন্য দপ্তর থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, দায়িত্বশীল পদগুলো সৈয়দপুরে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে উপ-বিভাগীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম রংপুর পওর বিভাগ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোছান্না গালিবের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, আবাসিক ভবনের ভাড়া এবং কার্যালয়ের জায়গায় কলা চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কার্যালয়টি বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে জানান। তবে ভাড়ার টাকা মসজিদে দেয়ার কথা বললেও মসজিদের মুয়াজ্জিন ইলিয়াস আলী দাবি করেন, ভাড়া থেকে কোনো টাকা মসজিদের ফান্ডে দেয়া হয় না। স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে কিশোরগঞ্জ পাউবো কার্যালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কার্যালয়ের স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ এবং জমি ও আবাসিক ভবনগুলোর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
