সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী জিজানে এ হামলা চালানো হয়। এতে জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন লেগে যায়। ইয়েমেনের আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী লোহিত সাগরের বন্দর জিজানের সৌদি আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় ভোরের দিকে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র একদিন পর আরামকো স্থাপনায় এই হামলাকে একটি বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সানাম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, আনসারুল্লাহ বা হুথি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুরস্ক বা পাকিস্তান যদি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কিংবা সৌদির সাথে মিলে কোনো শত্রুতামূলক কার্যকলাপে জড়ায়, তবে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এই হামলার মাধ্যমে নতুন প্রতিরক্ষা জোটকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, হুথিরা তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে এবং সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তথা আরামকো তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহন অবকাঠামোকে টার্গেট করবে। একই সাথে তারা মারিব, তায়েজ এবং হাদ্রামাউতের পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নরেটে সৌদিপন্থী ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। গত ১২ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র।
