যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য উটাহ অঙ্গরাজ্যে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ এক ক্রু নিহত হয়েছেন। উটাহর রিকফিল্ড এলাকার কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের সাথে চুক্তির অধীনে হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস পরিচালিত সিকোরস্কি এস-চৌষট্টি ‘স্কাইক্রেন’ নামের হেলিকপ্টারটি রিকফিল্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে থ্রি ক্রিকস রিজার্ভার এলাকায় ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের কাছে বিধ্বস্ত হয়। ন্যাশনাল ইন্টার ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) শনিবার ক্রুদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনায় দুই ক্রু মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মারা গেছেন। এনআইএফসি জানিয়েছে, চরম দাবানলের পরিস্থিতি এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বিধ্বস্ত স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পরে শনিবার মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়, তবে নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনা সত্ত্বেও রিকফিল্ডের কাছে ওয়াইডমাউথ টু দাবানল মোকাবিলায় উটাহর অগ্নিনির্বাপক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দাবানলটির ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলর হেক্ট শুক্রবার জানান, দুর্ঘটনার পর ক্রুরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রেখেছিল এবং পরবর্তীতে আবার অগ্নিনির্বাপক কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতে আমাদের কাজের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমরা আগুন নেভাতে এবং ভূমিতে থাকা কর্মীদের সহায়তায় বিমান ব্যবহার অব্যাহত রাখব।
উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স বন্য আগুন নেভানোর কাজকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পেশা হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে বজ্রপাত থেকে ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের সূত্রপাত হয় এবং এটি এখন পর্যন্ত এক লাখ ১১ হাজার একরের বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। এটি চলতি বছরে উটাহর সবচেয়ে বড় দাবানলে রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে উটাহতে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দাবানলের ঘটনা। এর আগে জুন মাসে কলোরাডো সীমান্তের কাছে কোলজ ও গোর দাবানল নেভানোর সময় তিনজন ফায়ারফাইটার নিহত হন এবং পরবর্তীতে জখম হয়ে আরও একজন মারা যান।
