গায়ে হলুদের কেনাকাটা করতে গিয়ে আর ফেরেনি সুশান্ত

গায়ে হলুদের কেনাকাটা করতে গিয়ে আর ফেরেনি সুশান্ত

ফন্ট সাইজ:

বিয়ের আনন্দে যেখানে মুখর থাকার কথা ছিল একটি পরিবার, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোক আর উৎকণ্ঠা। গায়ে হলুদের কেনাকাটা করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন সালুল্যপুর গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত গোপ (২৮)। বিয়ের মাত্র একদিন আগে তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

পারিবারিকভাবে সুশান্তের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। গত ১১ই জুলাই তার গায়ে হলুদ হওয়ার কথা ছিল। বিয়েকে ঘিরে পরিবারে চলছিল নানা প্রস্তুতি। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে হওয়ায় সুশান্ত ছিলেন সবার বড় আদরের। পরিবারের হাল ধরতে স্থানীয় একটি ফার্মেসির দোকানেও চাকরি করতেন তিনি। গত ১০ই জুলাই গায়ে হলুদের কেনাকাটা করতে বাড়ি থেকে মার্কেটের উদ্দেশ্যে বের হন সুশান্ত। কেনাকাটায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি তার মামাতো বোন চৈতিকে ফোন দেন এবং তাকে মিরপুরের বাসা থেকে বের হয়ে মার্কেটের সামনে আসতে বলেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সকাল ১১টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে মামাতো বোন চৈতিকে ফোন করেন সুশান্ত। ফোনে তিনি জানান, ‘আমি গাবতলী আছি, তোরা মার্কেটের সামনে আয়।’ এরপরই যেন হঠাৎ অন্ধকারে হারিয়ে যান তিনি। ওই ফোনকলের পর থেকে সুশান্তের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সুশান্ত মার্কেটে পৌঁছাননি। উদ্বিগ্ন হয়ে তার মামাতো বোন চৈতি বারবার ফোন করতে থাকেন। কিন্তু সুশান্ত আর ফোন ধরেননি। এরপর তার মোবাইল ফোনে একের পর এক কল গেলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে, ছেলের ফেরার অপেক্ষায় বাড়িতে বসেছিলেন সুশান্তের মা-বাবা। বিয়ের আগের দিন বলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের অপেক্ষার প্রহর ছিল আনন্দে ভরা। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আনন্দ পরিণত হয় উৎকণ্ঠায়। একসময় তারা বুঝতে পারেন, তাদের আদরের ছেলে আর বাড়ি ফিরছেন না। ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ১১ই জুলাই সুশান্তের বাবা বিষ্ণুপদ গোপ (৫৯) কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সুশান্তের বাবা বিষ্ণুপদ গোপ বলেন, আমার ছেলে খুবই সহজ-সরলভাবে চলাফেরা করতো। কারও সঙ্গে কখনো ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। গত ১০ই জুলাই থেকে আমার ছেলে নিখোঁজ। অথচ ১১ই জুলাই তার গায়ে হলুদ হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার জন্যই সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।’

তিনি বলেন, কেনাকাটায় সহযোগিতা করার জন্য সে তার মামাতো বোনকে ফোন দিয়েছিল। সর্বশেষ গাবতলী থেকে ফোন করে জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যে মার্কেটে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই। আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা দিশাহারা। জানি না সে কোথায় আছে, কেমন আছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ- আমার ছেলেকে খুঁজে বের করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। বিয়ের সাজে নয়, অন্তত জীবিত অবস্থায় একবার তাকে আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিন।’

সুশান্তের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা। যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজা এবং গায়ে হলুদের আনন্দে মুখর হওয়ার কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন স্বজনদের চোখে শুধু কান্না আর অপেক্ষা- কখন ফিরে আসবে তাদের আদরের সুশান্ত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন