দেশে গত সাড়ে ৬ বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২০ থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এ সময়ে আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের বড় একটি অংশই কিশোর ও তরুণ। এসব দুর্ঘটনায় আহতদের অর্ধেকের বেশির বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরভিত্তিক দুর্ঘটনার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৪৬৩ জন। ২০২১ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৮টিতে, নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ৩ হাজার ৯১ জনের। ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ২ হাজার ৬০৯ জনের। এরপর ২০২৫ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৯টিতে; ওই বছর নিহত হন ২ হাজার ৬৭১ জন। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ জন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬ হাজার ৩১৪টি অর্থাৎ প্রায় ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কার কারণে। এ ছাড়া ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ (৫ হাজার ৪৯৭টি) দুর্ঘটনায় চালক মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৪৮টি। বাকি ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ (৭০৬টি) দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য কারণে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি কিশোর-যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে। এতে তারা গতির মধ্যে রোমাঞ্চ অনুভব করেন। ফলে বাইকচালকরা নিজে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীসহ সড়কের অন্য ব্যবহারকারীদেরও দুর্ঘটনার শিকার করছেন।
দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বেশ কিছু সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে- মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা, বিটিআরসি’র মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরক্ষা প্রচারণা চালানো, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন চালু করা।
