ওভারটেকিংয়ের কারণেই সিলেটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ওভারটেকিংয়ের কারণেই সিলেটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ফন্ট সাইজ:

ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। বর্তমানে এ রুটে ৬ লেন প্রকল্পের কাজ চলছে। ফলে অনেক স্থানেই গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হয়। যেসব স্থানে ধীরগতির কোনো নিয়ম নেই সেখানে চালকরা বেপরোয়া গতিতেই গাড়ি চালাচ্ছেন। আর এ কারণেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরের খাসিকাপনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গুরুতর আহত ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি। তাদের মধ্যে কয়েকজন চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। এর আগে ওই রুটে ৮ নির্মাণ শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ওই রুটে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।

ওসমানীনগর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে স্পষ্ট কিছু ধারণা মিলেছে। কারণ একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। পেছনের একটি গাড়ি থেকে ওই ভিডিও রেকর্ড করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ পর্যালোচনা করেছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন; এই দুর্ঘটনায় কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট ধারণা মিলেছে। এর মধ্যে ছিল যানবাহনের দ্রুত গতি, ওভারটেকিং ও চালকের নিদ্রাহীনতা। ভিডিও পর্যালোচনার পর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক বাসটির পেছনে একটি গাড়ি থেকে ভিডিওটি করা হয়। দুর্ঘটনার চিত্র ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা ভিডিওটি দিয়েছে। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে দুর্ঘটনার সময় কোন গাড়ি কোন অবস্থানে ছিল। বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ছিল। বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের খাদে ফেলে দেয়।

ইউনিক পরিবহনের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েকবার রাস্তার ডানপাশে উঠে এসে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাম পাশে থাকে। হঠাৎ সামনে থেকে তীব্রগতিতে বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি এসে ইউনিক পরিবহনের বাসের সামনের বাম পাশে ধাক্কা দিয়ে বাম দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে নেমে যায়। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি পিকআপ ভ্যান ওভারটেক করতে গিয়ে রাস্তার ডানদিকে চলে আসে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি। তারপর তীব্রগতিতে ধাক্কা দেয় ইউনিক পরিবহনের বাসকে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সিলেট থেকে ইউনিক পরিবহনের যে বাসটি ছেড়ে যায়- সেটির চালক সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গাড়ি ছাড়েন।

অন্যদিকে বেঙ্গল পরিবহনের গাড়ির চালক গোটা রাত অনিদ্রা করে গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন। বেঙ্গল পরিবহন ওভারটেকিং করতে গিয়ে এ দুঘর্টনা ঘটিয়েছে। এতে ঝরে গেছে ৯ জনের প্রাণ। সিলেট-ঢাকা হাইওয়েতে চলাচলকারী গাড়ির চালকরা জানান, দুর্ঘটনার কারণ ভিন্ন হতে পারে। বর্তমানে এ রুটটিতে চলছে ৬ লেনের নির্মাণকাজ। এই নির্মাণকাজের কারণে অনেক স্থানে দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়। এতে করে নির্ধারিত সময়ের অনেক সময় সড়কেই কাটাতে হয় চালকদের। ফলে যেসব এলাকায় সড়কে কাজ চলছে না সেসব এলাকায় চালকরা দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান। কিন্তু সেটি ঠিক না। জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সেটি মাথায় রেখে গাড়ি চালানো উচিত।

তারা জানান যত দ্রুত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হবে, তত দ্রুত নিরাপদ হয়ে উঠবে এ রুটটি। কারণ, নির্মাণকাজ চলার কারণে অনেক স্থানে স্পিডেরও কোনো ধরা-বাধা নিয়ম নেই। সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল হোসেন মানবজমিনকে জানান, সড়কের কাজ চলার কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলে। অনেক জায়গায় সড়কের কন্ডিশন ভালো নয়, এতে দুর্ঘটনা হয়। ওসমানীনগরের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, যে ভিডিও দেখলাম তাতে দেখা গেছে সম্পূর্ণ দোষ বেঙ্গল পরিবহনের গাড়ির চালকের। দ্রুতগতিতে ওভারটেকিং করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ভয়াবহ এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষাও আমাদের নেই। তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে রুটে দোতলা স্লিপার বাস চলাচলের কোনো অনুমতি নেই। কিন্তু চলে কীভাবে- এটা এখন বড় প্রশ্ন। প্রশাসন এটি দেখেও না দেখার ভান করছে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন