লজ্জার ব্যাটিংয়ে হতাশ সিমন্স

লজ্জার ব্যাটিংয়ে হতাশ সিমন্স

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ডারউইনে লজ্জার ব্যাটিং প্রদর্শনী বাংলাদেশের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল সফরকারীরা হেরে গেছে ইনিংস ও ৩৮ রানে। প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করা টাইগাররা দ্বিতীয় ইনিংসে স্রেফ ৫৪ রানে গুটিয়ে যায়। চোট কাটিয়ে সাড়ে ৫ মাস পর ফেরা বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থমসন ২৫ রানে ৮ উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দেন অভিজ্ঞ টাইগার ব্যাটিং লাইনআপ। অথচ ২২ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন মাত্র এক ম্যাচ। মারারা ওভালে থমসনের তোপে ৮ জন স্পেশালিস্ট ব্যাটার নিয়ে খেলেও বিব্রতকর হার দেখতে হলো টাইগারদের। ডারউইনে দলের এই পারফরম্যান্স ও বাজে শটে উইকেট বিসর্জন দেখে ক্ষোভ সামলাতে পারেননি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

শিষ্যদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘যে ৩ দিন আমরা পেয়েছিলাম, বেশ ভালো কিছু কাজ হয়েছে আমাদের। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে আমরা নিজেদের হতাশ করেছি। যদি খেয়াল করে দেখেন যেভাবে আমরা আউট হয়েছি, ভালো কিছু ছিল না।’ গতকাল ১৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে মাত্র ৩৫ রানের মধ্যে বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে চরম লজ্জায় পড়ে দল। চারে নামা সৌম্য সরকার করেন ৫ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহীম বোল্ড হন স্রেফ ২ রানে। ওপেনার তানজিদ হাসান ২২ রান করলেও দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে উইকেট বিসর্জন দেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ০ এবং মিরাজ ৬ রানে বিদায় নেন। সফরকারীদের শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে। প্রতিপক্ষের অফ স্পিনার কোরি রকিচ্চলি ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। আনকোরা বোলারদের বিপক্ষে এমন ভরাডুবির পর ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল ভুলগুলো শুধরে নেয়ার বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে এই ব্যর্থতার মধ্যেও টাইগারদের মানসিক শক্তি জোগাতে ও মূল ম্যাচে তাদের জয়ের মানসিকতা ধরে রাখার আশা ব্যক্ত করেন কোচ।

তিনি বলেন, ‘ছেলেদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, টেস্ট ম্যাচে আমরা যেখানে থাকতে চাই, সেটির জন্য আগামী ৩ দিনে সেই কাজগুলো ওরা করবে।’
প্রস্তুতি ম্যাচে এই বিপর্যয়ের পর মূল টেস্ট সিরিজে মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্সদের মতো শীর্ষ অজি বোলারদের সামলানো নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। মারারা ওভালের উইকেটে তেমন মারাত্মক বাউন্স ছিল না। তবে থমসনের হালকা সুইং ও স্কিড করা বলের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়েছেন শান্তরা। আগামী বৃহস্পতিবার ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে টেকনিকের এই ফাঁকফোকর সামলানো বিসিবি’র জন্য অনেক বড় পরীক্ষা। মূল লড়াইয়ের মাঠে নামার আগে সফরকারী দল আর মাত্র ৩টি অনুশীলন সেশন খুঁজে পাবে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই শিষ্যদের নিয়ে টেকনিকের ঘাটতিগুলো কাটিয়ে ওঠার বিশেষ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন কোচ। চোট কাটিয়ে উঠতে থাকা লিটন কুমার দাস একাদশে ফিরলে ব্যাটিং লাইনে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। টেস্ট ম্যাচের আগে অবশিষ্ট স্বল্প সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও কাজের সুযোগ নিয়ে কথা বলেন অভিজ্ঞ প্রধান কোচ।

অনুশীলনের বাকি দিনগুলোতে সঠিক প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচে যথাযথভাবে যা করতে হবে, তা নিয়ে কাজ করার জন্য ৩টি দিন আছে
আমাদের।’ প্রথম টেস্টের মূল লড়াইয়ে নামার আগে সফরকারীদের নিজেদের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য হাতে বিশেষ কোনো বাড়তি সুযোগ অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। মারারা ওভালের প্রতিকূল উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচটিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ৮ জন স্পেশালিস্ট ব্যাটারকে খেলিয়ে মাত্র ২ দিনেই লজ্জাজনক হার মেনে নিয়েছে শান্তর দল। মূল টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে এই ভরাডুবি স্বাগতিক অজিদের মানসিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজমেন্ট এখন টপ অর্ডারের বাজে পারফরম্যান্স ও টেকনিকের মারাত্মক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে তরুণ বাঁহাতি পেসার থমসনের সুইং ও স্কিডের সামনে যেভাবে উইকেটের পতন ঘটেছে, তা নিয়ে নতুন কৌশল সাজানো অব্যাহত রাখছে বিসিবি’র উচ্চপর্যায়ের কোচিং প্যানেল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন চরম ব্যর্থতার পরও শিষ্যদের ভুল শুধরে দ্রুত মাঠে ফেরার জোর তাগিদ দিচ্ছেন প্রধান কোচ। ডারউইনের ভরাডুবি পেছনে ফেলে আসন্ন প্রথম টেস্ট ম্যাচের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘হতাশাজনক ম্যাচ, তবে আমরা সামনে তাকাচ্ছি এবং টেস্ট ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন